বরগুনায় বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৮ পিএম


বরগুনায় বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

রগুনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন বাস মালিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।

 

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে ধর্মঘটপালন করেন।

 

জানা যায়, দুই মাস ধরে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়ক দিয়ে ঢাকা-বরগুনা রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছে বরিশালের রূপাতলী বাস মালিক সমিতি। এ কারণে দূরপাল্লার বাসগুলো পটুয়াখালীর সুবিদখালী ও আমতলী ফেরি পার হয়ে বরগুনায় আসা-যাওয়া করছে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন-চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে যাত্রীদের। ফলে পদ্মা সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত বরগুনার সড়ক পথের যাত্রীরা। যার কারনে সোমবার ভোর ৬টা থেকে বরগুনা থেকে আসা-যাওয়া করা সব দূরপাল্লার বাস পরিবহন মালিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন।


বরগুনা পৌর বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বাস বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।

 

ঢাকাগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম, মিনুরুল বলেন, কাউকে না জানিয়ে আজ ধর্মঘট। বাস টার্মিনালে এসে দেখি বাস চলে না । ঢাকায় জরুরি কাজ, চাকরি আছে। এখন লঞ্চে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। লঞ্চে অনেক সময় লাগবে, তবুও যেতে হবে।

 

ঢাকাগামী যাত্রী মাসুদ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু হয়েও আমরা তার সুফল থেকে বঞ্চিত। মালিক পক্ষের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা সাধারণ যাত্রীরা। আমি ঢাকায় থাকি, জরুরি কাজে বাড়িতে এসেছিলাম। এখন সময় নষ্ট করে লঞ্চে ফিরতে হবে।


বরগুনার শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার পরিচালক পীলু ঘোষ বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ রুটে যানবাহন চলাচল করলেও স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই বরিশালের বাস মালিক সমিতির নেতারা এই পথে ঢাকা-বরগুনার মধ্যে চলাচলকারী পরিবহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। আমাদের চালক-শ্রমিকদের মারধর করছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পযন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।

 

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনার বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলেচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়ক দিয়ে ঢাকা-বরগুনা রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বরিশালের রুপাতলী বাস মালিক সমিতির মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে বাসগুলো পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ এবং বরগুনা জেলার আমতলী ফেরি পার হয়ে বরগুনা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়া-আসা করছে। এতে ১০ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ঢাকামুখী যাত্রীরা। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ রুটের যাত্রীরা।

Ads