লামায় প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি
১১ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩৪ পিএম
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানের লামায় নিম্নাঞ্চল বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পৌরএলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এলাকা পানির নীচে তলিয়ে গেছে। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
পাহাড়ী ধলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাসভবনসহ উপজেলা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসক থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কবাণী বিজ্ঞাপ্তি জারি করেছে। ফাসিঁয়াখালী সড়ক সাথে লামা-আলীকদম সড়কে বিভিন্ন পয়ন্টে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে পাহাড়ে পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদেরকে নিরাপদে আশ্রয় গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।
সূত্র, গত ৪ দিন ব্যাপী প্রবল বর্ষণের ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাহাড়ী ঢলের পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং পৌরসভা এলাকা পাহাড়ী ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে। লামা বাজার কয়েকটি এলাকা পানির নীচে তলিয়ে গেছে। লামা বাজার ছাড়াও প্লাবিত এলাকা গুলোর মধ্যে রয়েছে লামা পৌরসভার নয়া পাড়া, লামা বাসষ্টেশন, নুনারবিল, হাসপাতাল পাড়া, উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকা, রাজবাড়ি, কলিঙ্গাবিল, চাম্পাতলী, ছোট বমু, এবং রুপসী পাড়ার নিম্নাঞ্চল এলাকা। এছাড়া, গতকাল থেকে হলি চাইল্ড পাবলিক স্কুল ও ছোট নুনারবিল পাড়ায় কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। লামা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায় নাই। বন্যা প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, উচু ভবন ও পাহাড়ের চুড়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর এ জান্নাত রুমি ও লামা পৌরসভা মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম নিম্নাঞ্চল বন্যা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রের অবস্থান করার বন্যায় মানুষের শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর এ জান্নাত রুমি জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা থেকে মানুষজন সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলার পক্ষে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া, গত দুইদিন থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার মানুষের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার প্রত্যেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে খোলে রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।




























