মেয়ের সাথে পরীক্ষা দিয়ে বোর্ড চ্যালেন্জ করে পাশ করেছে বাবা
৩১ আগস্ট ২০২৩, ১০:৫০ পিএম
লালপুরে বাবা ও মেয়ে একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে মেয়ে পাশ করলেও ফেল করেছিল বাবা। পরে আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বোর্ড চ্যালেন্জ করে ৪.০৭ জিপিএ পেয়ে কৃতকার্য হয়েছে বাবা আব্দুল হান্নান। সে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রুইগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে ইলেকট্রনিক ট্রেড থেকে পরীক্ষা দিয়ে পদার্থ বিষয়ে ফেল করে অকৃতকার্য হয়েছিল।
গত ১১ মে "মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন বাবা" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। সেখানে আবদুল হানান জানিয়েছিলেন দীর্ঘ ২৫ বছর আগে ১৯৯৮ সালে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হওয়ার পর আর লেখা পড়া করা হয়নি। দারিদ্র্যের বাস্তবতায় সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে নেমে পড়েন সংসার জীবনে। পৈতৃক সূত্রে গোপালপুর রেলগেট এলাকায় একটা দোকানে চায়ের ব্যবসা শুরু করেন।
সংসার জীবনে স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে তার। এক ছেলে আবু হানিফ নিরব (১১) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস হাইস্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ছোট ছেলে রমজান মিয়ার বয়স মাত্র চার বছর। কিন্তু ছাত্রজীবনের সেই পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার প্রবল ইচ্ছা থেকে লোকলজ্জাকে উপেক্ষা করে ২০২১ সালে তিনি উপজেলার রুইগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম (ভোকেশনাল) শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন। আব্দুল হান্নান জানান, চ্যালেন্জ করে কৃতকার্য হওয়ায় কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।
উচ্ছ্বসিত মেয়ে হালিমা জানান, তার বাবার মেধা আছে এবং ইচ্ছা শক্তি আছে। পরিবারের সবার সমর্থনও রয়েছে। তাই এ বয়সেও তার লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছাটার কারণেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা। অকৃতকার্য হলেও বিশ্বাস ছিল বোর্ড চ্যালেন্জ করলে বাবা কৃতকার্য হবেন। বোর্ড চ্যালেন্জে আশানুরূপ ফল পেয়ে আমরা আনন্দিত।

































