ফেসবুক কমেন্টকে কেন্দ্র করে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন
২৯ আগস্ট ২০২২, ০৮:১৭ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।
ফেসবুকে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে ডেকে একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
গত শনিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরমান মাসুদকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকপাড়ে বেধড়ক মারধর করে একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল ইসলাম বিজয়,নোমান আহমেদ তাসনিম, শেখ নাঈম,রিজভী আহমেদ, আবির হাসান সাজিদ, ইমন শেখ।
এ ঘটনায় রবিবার (২৮ আগস্ট) শারীরিক নির্যাতনের শিকার মোঃ আরমান মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে রাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ পত্রে তিনি জানান, আমি অত্র বিশ্ববিদ্যালয় টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি মেনেজমেন্ট বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ইং ২৫/০৮/২০২২ তারিখ ফেসবুকে সারকাজম নামক গ্রুপে মজা করে ১টি কমেন্ট করি। তারপর, গত ইং ২৭/০৮/২০১২ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকার সময় উক্ত কমেন্টের জের ধরে ইমন শেখ (২৪) মুঠোফোনে কল করে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুস কেন্টিনে ডেকে নেয়। সেখান থেকে ইমন শেখ (২৪) সহ আশরাফুল ইসলাম বিজয় (২৪), নোমান আহম্মেদ তাসনিম (২৫), শেখ নাঈম (২৫), রিজভী আহম্মেদ (২৩), আবির হাসান সাজিদ (২৩) সহ আরো অনেকে আমাকে জোর পূর্বক লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকপাড়ে নিয়ে গিয়ে বিনা কারণে আমার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি, লাথি মারে এবং পাশে থাকা বাঁশ দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাবে এবং আমাকে হুমকি দিয়ে বলে যে, তুই যদি এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করিস বা আইনের আশ্রয় নিস তাহলে তোকে খুন করে তোর লাশ গুম করে ফেলব।
এ নিয়ে উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান বাপন চন্দ্র কুরি বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ বিষয়ে আমাকে একটি লিখিত অভিযোগ পত্র দিয়েছেন। সেটি আমি প্রক্টর বরাবর ফরওয়ার্ড করি। আমরা অবজারভ করেছি তার হাতে পায়ে বিভিন্ন জায়গায় মারধর করা হয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। তার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কোন কারণ নাই। এ বিষয়ে বিভাগ দায়বদ্ধ। শিক্ষার্থী জিডি করতে চাইলে আমি তার তরফ থেকে জিডি করে নিতে বলি এবং পরবর্তী সেই জিডির কপি জমা প্রদান করতে বলি। এ বিষয়ে ঐ কয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে অভিযোগটি গতকাল পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমাদের জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান করে দেখব মামলা করার মত হলে মামলা করা হবে।


































