সিলেট শহর ও উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত, খাবার পানি সংকট

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৯ মে ২০২২, ০৪:০৬ পিএম


সিলেট শহর ও উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত, খাবার পানি সংকট

ছবি- সংগৃহীত।

 

সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকার বন্যাকবলিত লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। কৃষষকেরা রোদের অভাবে কাটা ধান ও গোখাদ্য শুকাতে পারছেন না। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাইয়িদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বৃষ্টি কমছে না। তাই পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে গতকাল দুপুরে সিলেট নগরীর কয়েকটি আশ্রয়শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুল হক। তারা আগামী বর্ষার আগে সিলেটে সুরমা, কুশিয়ারা নদী খননের আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খুবই আন্তরিক।

 

সিলেট শহরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পর্যটন নগরীর অনেক বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অফিস ও দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। সুরমা নদী উপচে মহানগরীর বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় পানি থৈথৈ করছে। নগরীর মাছিমপুরের অনেক বাসার উঠানে, ঘরে হাঁটু পানি। শুঁটকিবাজারের রাস্তায় কোমর পানি। তালতলা এলাকায় বিরাজ করছে হাঁটুসমান পানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আঙিনায় পানি। উপশহর, সোবহানিঘাট, কালিঘাট, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, নবাব রোড, তপোবনসহ পুরো এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ঐ সব এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরের কাছে সুরমা নদী পানিতে টইটম্বুর, তাই ড্রেনের পানি নামছে না। পাড়ায় পাড়ায় ড্রেনের বর্জ্য অলি-গলির বাসায় ঢুকে এক অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে।

 

এদিকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। দক্ষিণ সুরমা, উপশহরসহ কয়েকটি এলাকার বিদ্যুতের সাব-স্টেশন পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এছাড়া বাড়িঘরে পানি উঠে যাওয়ায় কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, কোম্পানিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, সদর ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বেশির ভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

Ads