‘মেসি ম্যাজিক’ শুরু থেকে শেষের আগেও : বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়জয়কা
১৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামের সবুজ চাদরে সাজানো মঞ্চ তখন পুরোপুরি প্রস্তুত। গ্যালারির ৭৭ হাজার আসনে অপেক্ষমাণ হাজারো চোখ। সবার অপেক্ষা একটাই—কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের মহোৎসব উদযাপনের। ফুটবল ঈশ্বর যখন মাঠে পা রাখলেন, তখন গ্যালারিতে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হলো। ক্যামেরায় ধরা পড়ল আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক তরুণীর কান্নাভেজা চোখ। এ যেন কোটি ফুটবল ভক্তের পক্ষ থেকে প্রিয় নায়কের বিদায়ী মঞ্চে এক পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অর্ঘ্য।
বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ‘শেষের কবিতা’ শুরুর আগে গ্যালারির পরিবেশটা কিছুটা ভারী হয়ে উঠেছিল। সমর্থকদের স্মৃতিপটে একে একে ভেসে উঠছিল গত ২০ বছরের অজস্র সোনালী ফ্রেম। গ্যালারিতে আকাশি-সাদার বাঁধভাঙা উল্লাস থাকলেও, সবার মনেই বাজছিল এক বিদায়ের সুর। সবাই জানতেন, বিশ্বমঞ্চে কিংবদন্তির ফুটবল-কাব্যের শেষ অধ্যায় এটি।
তবে সেই ফুটবল জাদুকর যেন চিরযৌবনা, মাঠের খেলায় চিরকালই একটু দুষ্টু প্রকৃতির। বিষাদের সেই মেঘ এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে মেসি মেলে ধরলেন তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর সেই চেনা অগ্নিঝরা রূপ। বিষাদের খাতা বন্ধ করে উপহার দিলেন নিখাদ আনন্দের ফুটবল।
খেলা শুরুর মাত্র ৫ মিনিটেই লাউতারো মার্টিনেজের পাস থেকে বক্সের ভেতর চমৎকার শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন মেসি। দর্শকরা উল্লাসে মেতে ওঠার আগেই অবশ্য রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজান। ওটি বাতিল হলেও, সেটি ছিল কেবলই ঝড়ের পূর্বাভাস।
এরপর আর কবিকে রুখবে কে! নিজের চেনা আস্তিন থেকে বের করলেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অনবদ্য হ্যাটট্রিক। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মতোই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আর্জেন্টিনা। বিদায়ের মন খারাপ ভুলে ফুটবলপ্রেমীদের আরও একবার আনন্দে ভাসিয়ে মেসি বুঝিয়ে দিলেন—শেষের কবিতাতেও তিনি অনন্য, অপরাজিত।




























