মৌলভীবাজারে বিদেশ পাঠানোর নামে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম


মৌলভীবাজারে বিদেশ পাঠানোর নামে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

মৌলভীবাজারে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা ও ২ কোটি ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক আব্দুল কাইয়ুম রুমনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিঃস্ব হয়ে পড়া ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘ তিন বছর ধরে টাকা ফেরত না পেয়ে দেনার দায়ে দিশেহারা ৭টি পরিবার বিচার ও পাওনা আদায়ের দাবিতে শেষ সম্বলটুকু ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের আর এস কায়রান হল রুমে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী জুয়েনা আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আশ্বাস দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম রুমন এলাকার ৭ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট দুই কোটি ছয় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা লেনদেনের সময় রুমন প্রত্যেকের সাথে পৃথকভাবে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সই করেন এবং জামানত হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক প্রদান করেন। চুক্তি অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে ভিসা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি তা করতে ব্যর্থ হন। চুক্তির শর্ত ছিল ভিসা দিতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিপূরণসহ সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।

কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও রুমন ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেননি। পাওনা টাকা দাবি করতে গেলে উল্টো বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে রুমন ও তার ভাই নানা বাহানায় সময় নিলেও বর্তমানে তারা ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। পাওনাদাররা বাসায় গেলে কর্মচারীদের দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ফোনেও অকথ্য ভাষায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা সবাই শিক্ষিত এবং সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন। এজন্য কেউ বসতভিটা ও জমিজমা বিক্রি করেছেন, কেউ ব্যাংক লোন নিয়েছেন, আবার কেউ চড়া সুদে টাকা ধার করে রুমনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বিগত তিন বছরে ব্যাংক ঋণ ও সুদের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং পরিবারগুলো ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

টাকা আদায়ের জন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেন ভুক্তভোগীরা। এই সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়া হলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করার ঘোষণা দেন তারা। প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং গণভবনের সামনে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও হুঁশিয়ারি দেন নিঃস্ব হয়ে পড়া এই পরিবারগুলো।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জুয়েনা আক্তার (৪০ লক্ষ টাকা), আতিকুল ইসলাম (৩৬ লক্ষ টাকা), বাবলু মিয়া (৩৫ লক্ষ টাকা), লিপি আক্তার (৩১ লক্ষ টাকা), কামরান হোসাইন (৩১ লক্ষ টাকা), মো: জয়নুল ইসলাম (২১ লক্ষ টাকা) ও রুমেনা বেগম (১২ লক্ষ টাকা) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

Ads