বাগেরহাট দশানী-টু-গিলাতলা রামপাল-সড়কের বেহাল দশা
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৪৮ পিএম
ছবি-প্রতিদিনের চিত্র
বাগেরহাটের দশানী গিলাতলা রামপাল সড়কের দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা, যান চলাচল ও জন-দূর্ভোগ যেন চরমে উঠেছে। ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই সড়কটির বেশির ভাগই- ভাঙ্গাচোরা, খানাখন্দকে ভরা এ যেন জন সাধারণের গলার কাটায় পরিনত হয়েছে। এ ছাড়া সল্প প্রসস্থের এই সড়কটিতে থেকে থেকে আচমকা মোড়ের কারণে এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাট দূর্ঘটনা। রামপাল থেকে সল্প সময়ে জেলা সদরে আসার অন্য কোন পথ না থাকায় দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে পেশা জীব, শ্রমজীবি, ব্যাবসায়ী ও চাকুরীজীবি অসংখ্য স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করছে এই সড়ক দিয়ে। ব্যাস্ততম এই সড়কটি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পিচঢালা সড়ক যেন গ্রামের সাবেক মেঠোপথ। কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং তা বন্ধ করেছে ভাঙ্গা ইট দিয়ে সেটা ও দায়সারা গোচের।
তবে বাগেরহাট সড়ক বিভাগ বলছে সড়কটির প্রস্থ সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাগেরহাট শহরের দশানী থেকে শুরু হওয়া সড়কটি গিলাতলা হয়ে রামপাল শেষ হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা রয়েছে। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থা যে পায়ে হেটে চলাও দায়। যত্রতত্র খানা খন্দ আর কর্পেটিং উঠে সড়কের উপরে ছড়িয়ে- ছিটিয়ে থাকা পাথরে প্রতিনিয়ত উল্টে পড়ছেন রিক্সা, ভ্যান, কমবেশী আহত হচ্ছে গাড়ির যাত্রী, চালকেরাও। নিজেরা দূর্ভোগের হাত থেকে রেহাই পেতে এলাকাবাসী সড়কের অনেক জায়গায় ইট বিছিয়ে দিয়েছে । দ্রæত এই সড়ক সংস্কার না হলে যে কোন সময় প্রান হানীর মত বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এই এলাকাবাসী।
আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে এসে দূর্ঘটনার শিকার মিহিনা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় থেকে অটোযোগে ফিরছিলাম, সামনের দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে জায়গা দিতে গেলে সড়কের ভাংগা অংশে চাকা পড়ে আমাদের অটো উল্টে যায়। আমিসহ অটোর ৬ যাত্রী আহত হই।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক রানা বলেন, একে তো ভাঙ্গা-চোরা রাস্তা, পিচ উঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের টুকরো-যার উপর চাকা উঠলেই মোটরসাইকেল পিছলে যায়। সামনে তাকাবো না নিচে দেখবো। এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে পড়ি দূর্ঘটনায়।
কয়েকজন অটো, রিক্সা ও ভ্যান চালক জানান, আমরা গরীব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। রাস্তার কারনে গাড়ির পিছনে যত খরচ হয় তাতে আমাদের পরিবার নিয়ে দু বেলা দু মুঠো খাওয়াই কঠিন। সরকারের কাছে দ্রæত এই সড়ক সংস্কারের দাবি জানাই।
অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইমন বলেন, বাড়ি দিয়ে বিদ্যালয় মাত্র এক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় হেটেই বিদ্যালয়ে যাই। কিন্তু রাস্তা দিয়ে ঠিকমত হাটাই যায় না। আর বর্ষার সময় তো পানি, কাদা মেখে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
কাড়াপাড়া কাদম্বিনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোর্শেদা বাধন বলেন, মূল সড়কের পাশেই বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বাচ্চারা খুব-ই ঝুকির মধ্যে আসে। আমরাও ভয়ে থাকি কখন কি দূর্ঘটনা ঘটে, উপরন্তু বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় কোনো স্পীড ব্রেকার না থাকায় মাঝে মধ্যেই দূর্ঘটনা ঘটনা ঘটছে।
সড়কের পাশে বসবাসকারী অবসর প্রাপ্ত জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ উদ্দীন বলেন, রাস্তাটি যদি সংস্কার করা না হয়, তবে প্রাণহানীর মত দূর্ঘটনাও ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা দ্রæত এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাই।
এছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মোংলা, রামপাল, বিভিন্ন এলাকায় যাতায়েতের জন্য আমরা এই সড়কটি ব্যবহার করি। কিন্তু সারা বছর সড়কটির এমন বেহালদশা থাকে যে এই বাড়ি থেকে বের হতে গেলেই আতকে উঠি। বৃষ্টির মৌসুমে সড়কের অর্ধশতাধিক জায়গায় পানি জমে থাকে। শুকনো মৌসুমেও কয়েক জায়গায় পানি রয়েছে। এখন শুকনো মৌসুমে যদি রাস্তা সংস্কার না করা হয় তাহলে বর্ষা মৌসুম আসলে সড়কটি আর সংস্কার সম্ভব হবে না। তাই জনভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সড়ক ও জনপথ, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, দশানী থেকে গিলাতলা হয়ে রামপাল পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। বর্তমানে সড়কটির মাত্র ৬ কিলোমিটার জায়গার প্রস্থ ১৮ফুট রয়েছে। অবশিষ্ট ২৭ কি.মি. সড়ককে ১৮ ফুটে উন্নিতকরণ ও পুরো সড়ক সংস্কারের জন্য ডপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটা পাশ হলে আমরা দ্রæত কাজ শুরু করব। এছাড়া সাময়িকভাবে সড়কটিকে সচল রাখতে মেরামতের জন্য আমরা দরপত্র আহবান ও ঠিকাদার নির্বাচন করেছি। মার্চের মধ্যে সড়কের দূর্ঘটনা প্রবন ভাঙ্গাচোরা এলাকা সংস্কার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।































