বিশিষ্ট ছড়াকার নূরুজ্জামান ফিরোজ এর সমকালিন ছড়ার বই- "লাল ঝাল"
০২ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:১৭ পিএম
বিশিষ্ট ছড়াকার নূরুজ্জামান ফিরোজ এর সমকালিন ছড়ার বই "লাল ঝাল"। উক্ত বইটি ২০১৮ ইং এর বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে। নূরুজ্জামান ফিরোজ ১৯৬৯ সালের ১৮ ই জুলাই খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে জন্মগ্রহন করেন। তাঁ পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলার উজিড়পুরে। পেশায় তিনি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার, সাংবাদিক ও শিক্ষক। তিনি ২০০৪ সালে ঢাকার উত্তরায় পথশিশুদের জন্য নিজের অর্থায়নে "ইউরেকা" নাম একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বেশ কয়েকটা সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি, উদ্যোক্তা। ৮০ এর দশক থেকে তিনি লিখালিখি রত আছেন। তাঁর মোট প্রকাশিত ছড়ার বইয়ের সংখ্যা ৫। এগুলো হল প্রশ্নবোধক ছড়া, বোমবাস্টিং, হটকেক, চানাচুর ও গনধোলাই। "লাল ঝাল" তাঁর সমকালিন ছড়াগ্রন্থ। বইটি সর্বমোট ৫৮ টি ছড়া দিয়ে সাজানো। বইটি তিনি তাঁর মরহুম বাবাকে উৎস্বর্গ করেছেন। ৫৮ টি ছড়ার মধ্যে বেশ কয়েকটা ছড়া দেশাত্মকবোধক। কয়েকটি রয়েছে সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে যেগুলোতে বিদ্রোহের সুর বাজে। বইটির ১ম ছড়া "দেশের মাটি" এবং শেষ ছড়াটা "মুখোশ" অর্থাৎ বইটির সূচনা হয় দেশের ছড়া "দেশের মাটি" এবং সর্বশেষ ছড়া "মুখোশ" দিয়ে বইটি ইতি টানা হয়েছে।
দেশকে ভালোবাসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। দেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভিন দেশের শত্রুদের ঘায়েল করা কিংবা শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মুলমন্ত্র তার ছড়াটাতে প্রকাশ পায়। ছড়াকার তার স্বরচিত ছড়াতে বলেছেন-
" কারা যেন পেছন থেকে
ছড়াচ্ছে বিষ বিশ্বাসে
মীর জাফরের গন্ধ ভাসে
এখন প্রতি নিঃশ্বাসে"
বইটির ৩৩ নং পৃঃতে ছড়াকারের "গুম " নামক ছড়াতে দেশের ভেতরে গুম হওয়া মানুষের চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি তার লিখার মাধ্যমে সমাজের লোকদের চোখে আঙ্গুল ধরে দেখিয়ে দিয়েছেন দেশের ভেতরে মানুষেরা কিভাবে দিনের পর দিন গুম হচ্ছে।
" গুলশান সব নিরব নিথর
চারপাশও নিঝঝুম
দুই পাশে দুই গুম তারকা
পাচ্ছি তাদের উম।
দৈনিক বাজারের দৃশ্যও তার দৃষ্টির আড়াল হয় নি। ব্যবসায়িরা যে কত পলিটিক্স করে ব্যবসার নামে কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে তাঁর ছড়াতে তা তিনি সুন্দরভাবে তুলে দিচ্ছে। ৩৫ পৃঃতে তিনি "ছবি" নামক একটা ছড়া লিখেছেন। যেখানে তিনি গরুর গোশত ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।
" ঝাল বেটেছো মশলা পেষো
আনছি গরুর মাংস
এনেই দেখি মাংস কোথায়
হাড্ডি অধিকাংশ"
অন্য চারটি চরণে তিনি আরো লিখেছেন-
"আধা কেজি মাংশ মাঝে
দুইশ গ্রাম চর্বি তার
এখন গরুর ছবিই খাবি
তাছাড়া কি করবি আর"
৪১ নং পৃঃতে তিনি লিখেছেন সমাজে বা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা অসংখ্য চামচা ও চেলা নিয়ে। তিনি আমজনতার পক্ষে লিখে গেছেন ছড়াটিতে। ছড়াকার তার "চামচা ও চেলা" ছড়াতে লিখেছেন -
"অলিগলি রাজপথে
জীবনের মাঝপথে
কি আজ খেলা
সবখানে উঁকিমারে
চামচা ও চেলা"
দেশের মধ্যে বসবাসরত অনেক মানুষ ভদ্রতার মুখোশ পড়ে দেশের কিংবা অন্যের ক্ষতি করে। ছড়াকারের সমকালিন ছড়ার বইটির শেষ ছড়াটা " মুখোশ" তার ইঙ্গিত প্রদান করে। "মুখোশ" ছড়াটার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হল-
"সত্য ন্যায়ের মুখোশ পরে
সরল মানুষ ঠকিয়ে
মিছে মায়ার ভান করে আর
ডুকরে কাঁদে ককিয়ে"।
বিশিষ্ট ছড়াকার নূরুজ্জামান ফিরোজের লেখার হাত দিন দিন বৃদ্ধি হোক। তিনি যেভাবে দেশও দেশের তরে বা শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।


















