নাটোরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১০৬ জন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০৬ জন ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকটে অনেককে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ডায়রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং ৪৭ জন নারী ও শিশু।
আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা বেগম বলেন, বুধবার সকালে খাবার খাওয়ার পর থেকেই তার পাতলা পায়খানা, বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। পরে তার শাশুড়ি ও ননদেরাও একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হন।
তারা সবাই সাপ্লাইয়ের পানি ব্যবহার করেন জানিয়ে নাজমা বলেন, ওই পানি থেকেই অসুস্থতার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
শহরের কানাইখালী এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রথমে এক-দুইবার পাতলা পায়খানা হলেও পরে সমস্যা বাড়তে থাকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এসে নিজের এলাকার আরও অনেককে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখেছেন।
নাটোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, সাধারণত এ মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বাড়ে। তবে এবার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এক দিনেই ৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি নতুন রোগী আসার সংখ্যাও বাড়ছে।
সিভিল সার্জন বলেন, রোগীদের অসুস্থতার উৎস শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অস্বাভাবিক হারে রোগী আসার তথ্য পাওয়া যায়নি। নাটোর শহরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা থেকেও রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে স্যালাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শনিবার বা রোববার আরও স্যালাইন সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।




















