ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের ফাঁদে নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

কুয়েল ইসলাম সিহাত, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম


ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের ফাঁদে নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক মাদরাসাছাত্রীকে (নবম শ্রেণি) অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আখিনুর নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তার আখিনুর পঞ্চগড় সদর থানার চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী কিশোরীও একই মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল, যার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ মে রাতে বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে।

সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে সে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবার জানতে পারে। পরে কিশোরী পরিবারের কাছে আখিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনার কারণে আইনি পদক্ষেপে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্‌প্রতিবন্ধী। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আখিনুর এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলা করার পর আসামির পরিবার থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের চাচা মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, তার ভাতিজা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এছাড়া আখিনুরের জন্ম ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সাল দাবি করে তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, আখিনুরের বয়স চৌদ্দ বছরের কিছু বেশি হলেও মামলার এজাহারে তাকে ১৯ বছর বয়সী দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ওই কিশোরীর চরিত্র নিয়েও স্থানীয়দের নানা অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান জানান, আখিনুর তাদের মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হলেও কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অপরাধে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপর থেকে সে দীর্ঘদিন মাদরাসায় অনুপস্থিত ছিল।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকলেছুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

Ads