লক্ষ্মীপুরে বেতারের সাংবাদিক হয়েও প্রতিবন্ধী পরিবারের ভূমি দখল!

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৩৪ পিএম


লক্ষ্মীপুরে বেতারের সাংবাদিক হয়েও প্রতিবন্ধী পরিবারের ভূমি দখল!

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


ক্ষ্মীপুরে প্রতিবন্ধী রিকসা চালক সফিক উল্যার জমি অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ ওঠেছে বাংলাদেশ বেতারের সাংবাদিক ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের  সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠানের বিরুদ্ধে।

 

জমি দখলের সময় পুলিশের উপস্থিতিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ও সন্ত্রাসী ব্যবহার করে পুরাতন ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও গাছপালা কেটে নিয়ে যায়। এসময় মহিলাদের উপর হামলা করারও অভিযোগ রয়েছে। পুকুর ঘাট, শতবছরের পুরাতন জনচলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে অবৈধভাবে  জবরদখলে নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নিমার্ণ করছে মাঈন উদ্দিন পাঠান। সাংবাদিক পরিচয়ে জমি জবরদখলের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মাইন উদ্দিন পাঠান শিক্ষক, সাংবাদিক হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিভাবে প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধার জমি দখল করে পুলিশের সহায়তায়?

 

দখল ঠেকাতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা কপিসহ গত ১৩ মার্চ ২০২২ ইং লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন জমির মালিক মমিন উল্যা গংরা। জোরপূর্বক অবৈধভাবে জমি দখলের ঘটনা ঘটে ১৭ ই মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ৩ এপ্রিল, নির্মাণ কাজ চলমান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড সমসেরাবাদ মোবারক কলোনী আলীমুদ্দিন বেপারী বাড়িতে।

 

মাঈন উদ্দিন পাঠানের অবৈধভাবে জবরদখলের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেররা

 

মানববন্ধনে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৭ নং ওয়ার্ড আলীমুদ্দিন বেপারী বাড়ির অসহায় বৃদ্ধা মমিন উল্ল্যা (৭৫) জানায়, জমি আমার ক্রয়কৃত এবং ওয়ারিশ, ৭০ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছি। ৭৫ নং সমসেরাবাদ মৌজার ১১০৫,১১০৭ দুই দাগে মোট সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ওয়ারিশ ও ক্রয় সূত্রে মালিক মমিন উল্যা গংরা। তিনি ১৯৭৭ সালের ৫ জানুয়ারি সাফকবলা দলিল মূলে জালাল আহম্মেদ থেকে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যাহার বায়া দলিল ৩১ আগষ্ট ১৯৪২ ইং সনের দলিল নং ৩৫০৫। যাহার সিএস ১১, এসএ ১৫, ডিপি ১৬৭৯ বতমান ৫১৭৬ খতিয়ান এলাহি বক্সের মেয়ে সুজিয়া খাতুন, জামাতা জালাল আহম্মেদ থেকে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি খরিদ সূত্রে মালিক হয়েছি।

 

এজমি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলে আসছে মাঈন উদ্দিন পাঠান এবং আব্দুল লতিফ গংদের সাথে।জবরদখলের সাথে জড়িত সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন টিপু ও তার লোকজন, আলমগীর হোসেন রতন, টিটু, ফারুক, পাটোয়ারী বাড়ির স্বপন, বিদ্যুৎ বাশার, মাটিয়া সফিক ও তার বৌ, সুফিয়া বেগমসহ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরাও জমি দখলে অংশ গ্রহন করেন ।

 

এবিষয়ে মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন ‘আমি জমি মমিন উল্লাহর মায়ের কাছ থেকে খরিদ করেছি। তাই দখল করেছি।’ এ সম্পক্তি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট রিভিশন নং ৪৫/২০২২ ইং। বিরোধকৃত সম্পক্তিতে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট ।

Ads