ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য দিয়ার লাশ উত্তোলন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৫২ পিএম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য দিয়ার লাশ উত্তোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় মৃত নওশিন আহমেদ দিয়ার (২৯) লাশ ময়না তদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। পরে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে কবর থেকে দিয়ার লাশ উত্তোলন নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়কের টালবাহানার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
 
মামলার বাদী ও মৃত নওশিন আহমেদ দিয়ার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু মিয়া জানান, গত বুধবার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের হয়। ওই দিন বিকেলেই লাশ উত্তোলনের কথা ছিল। পরে তা শুক্রবার সকাল ১০টায় সময় নির্ধারন করা হয়। সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ শহরের শেরপুর কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন চিকিৎসক সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে ময়না তদন্তের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেনের সাথে কথা বলে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিলে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা পর দুপুর প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার এসআই নারায়ণ চন্দ্র দাস, এসআই শিরিন আক্তার, আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় মর্গে। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ বলেন, 'আদালতে নির্দেশ মরদেহ উত্তোলনের পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ প্রেরণ করা হয়েছে।' বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসক আজহারুর রহমান তুহিন, ডা. ইকরামুল রেজা ও ডা. সাখাওয়াত হোসেন মৃত দিয়ার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন।জেলা সদর হাসপাতালে তত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, 'বৃহষ্পতিবার বিকেল হয়ে যাওয়ায় ওইদিন লাশ উত্তোলন করা হয়নি।' তবে গতকালের লাশ উত্তোলন নিয়ে সময়ক্ষেপনের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, 'আদালতের নির্দেশ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তােলন করা হয়।'


উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়া ক্রিসেন্ট কিণ্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারি শিক্ষক নওশীন আহাম্মদ দিয়া গর্ভবতী অবস্থায় গত ৩০ অক্টোবর খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। আগাম অপারেশনের মাধ্যমে কন্যা সন্তান প্রসব করানো হয়। সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে রিলিজ দিয়ে দেয়া হয়। ৪ নভেম্বর পুনরায় দিয়ার শরীর খারাপ হলে তাকে আবার ওই হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল মৃত্যু হতে পারে জেনেও দিয়ার ভুল চিকিৎসা-ভুল ইনজেকশন ও ভুল ওষুধ প্রয়োগ করায় অজ্ঞান হয়ে। এরপর তার মুখে অক্সিজেন দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান,কয়েক ঘন্টা পূর্বেই তার মৃত্য হয়েছে। মৃত দিয়ার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু মিয়া গত বুধবার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন খ্রীস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. ডিউক চৌধুরী ও তার ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল এবং মো. শাহাদাৎ হোসেন রাসেল।
Ads