লালমনিরহাটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সরিয়ে নেওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৩২ পিএম


লালমনিরহাটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সরিয়ে নেওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

ছবি-সংগৃহীত

লালমনিরহাট শহরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃ নির্মানকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতন নাগরিক সমাজের নিন্দার ঝড়। শহীদ মিনার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

লালমনিরহাট শহড়ের কালীবাড়ি থানা রোডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃ নির্মান শুরু করতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃমতিয়ার রহমান,লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম মিন্টু,জেলা যুবলীগের সভাপতি মোড়ল হুমায়ুন কবীর,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মজিবর রহমান,জেলা আওয়ামিলীগের প্রচার সম্পাদক সুমন খাঁন, শুভ উদ্বোধন করেন।কাজ শুরুর কয়েক ঘন্টা পরে পূর্ব অনুমতি ছাড়া জেলা প্রশাসনের জমিতে শহীদ মিনার নির্মান শুরু করায়, পৌর ভূমি অফিসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে  উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা  পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন।

লালমনিরহাটের পৌরসভার মেয়র, জেলা প্রশাসকের পক্ষে মনোনীত কর্মকর্তা,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শহীদ মিনার পুনঃনির্মানে জটিলতা নিরসন করে পুনরায় কাজ শুরু করান। পৌর কতৃপক্ষ এবং নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের জন্য  নক্সা প্রদর্শনের ব্যাবস্থা না করেই,শহীদ মিনারে অস্থায়ী ঘেরা দিয়ে রাতের আঁধারে কাজ শুরু করলে জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেস বুক সহ  শহড়ে জুড়ে সচেতন মানুষের মাঝে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনায় লালমনিরহাটের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বিভিন্ন সংবাদ পত্রের কর্মী মুখোমুখি হলে তারা শহীদ মিনার কে ঘিরে কুচক্রী মহলের ঘৃন্য ষঢ়যন্ত্রের কথা ক্ষোভের সাথে প্রতিবেদকের কাছে তুলে ধরেন। লালমনিরহাট জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাবেক সভাপতি সাংস্কৃতিক কর্মী পি কে বিক্রম বলেন, একটি দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার নির্মানের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল লালমনিরহাটের সাংস্কৃতিক কর্মীদের, পৌর মেয়র প্রতিশ্রুতি দেন সেটি নির্মানের,কিন্তু আমরা হতবাক হয়েছি নামে মাত্র সতের লক্ষ্য টাকার বরাদ্দ রেখে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, নতুন শহীদ মিনার নির্মানের উদ্দেশ্যে নয়,শহীদ মিনারের ঠিক পেছনে  আওয়ামিলীগে যোগদান কারী প্রভাবশালী এক নেতার নবনির্মিত প্রাসাদ সমো একটি বাড়ী রয়েছে সেটি এই শহীদ মিনারের কারনে ঢাকা পড়ায়, ,বাড়ীর প্রতিবন্ধকতা সরাতে এই শহীদ মিনার নাম মাত্র মূল্যে নির্মানের অজুহাতে কৌশলে সরানো হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুল সড়ক থেকে বাড়ী বরাবর সরকারি ভূমির উপর দিয়ে রাস্তা বের করতে নক্সা পরিবর্তনের আভাস দেন এই সাংস্কৃতিক কর্মী। কৌশল হিসেবে সাংস্কৃতিক কর্মী, বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দের তাড়াহুড়ো করে সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোর একটি জোট ভুক্ত কমিটি গঠনের অজুহাতে ভুড়িভোজ করানো হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে।এই ঘটনার পিছনে ক্ষমতাধর ব্যাক্তির অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে উৎসুক সচেতন মানুষের মাঝে শহীদ মিনারের জায়গা ক্যূ হবার রহস্য সামনে চলে আসে।সমাজের নানা শ্রেনী এবং পেশার মানুষ এই ঘটনায় সমালোচনার ঝড় তুলেছেন পুরো শহড় জুড়ে।

মহান ভাষা আন্দোলনের গর্বিত ভাষা সৈনিক আঃ কাদের ভাসানী এই প্রতিবেদক কে বলেন, আমাদের মাতৃভাষার জন্য শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক এই পবিত্র শহীদ মিনার,যেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গর্বিত স্বাধীনতা পেয়েছি।সেই আবেগের স্থান টি যদি ব্যাক্তি বিশেষের স্বার্থে ভূলুন্ঠিত হয় তবে এর চেয়ে লজ্জার বিষয় জাতির সামনে অন্য কিছু হতে পারে না,তাই মূল বেদীর ঠিক পেছনে সামনের দিকে সমুন্নত রেখে নতুন শহীদ মিনার নির্মিত করার দাবী জানাচ্ছি।

লালমনিরহাট জেলা সেচ্ছা সেবকলীগের সহ সভাপতি আঃ রাশেদ বাবু এই প্রতিবেদক কে বলেন, লালমনিরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ইতিহাসের পাতায় গুরুত্ব বহন করে । মুক্তিযুদ্ধকালীন লালমনিরহাট পাক হানাদার মুক্ত হবার পর প্রথম স্বাধীন দেশের পতাকা উঠেছিল এই শহীদ মিনারে।এটি নির্মানের অজুহাতে এটিকে গ্রাস করার জন্য কাউকে সুযোগ করে দিলে সেটি বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর হবে।আমাদের সকলের উচিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি রক্ষার জন্য কারন এটি জাতীয় স্থাপনা এটি নির্মানের নামে বিকৃতি যেন না করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে নীলাঞ্জনা শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ শহীদ মিনারের মুল বেদীতে কালো কাপড়ে আচ্ছাদিত আমাকে রক্ষা করুন  লিখে প্রতিবাদ জানালে,অজ্ঞাত ব্যাক্তি কে বা কাহারা তা ছিড়ে ফেলেন।এই ঘটনায় সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রভাবশালী ক্ষমতাবান ব্যাক্তির দিকে আঙুল তুলছেন।শহীদ মিনার পুনঃ নির্মানে মুল বেদী বিকৃত ভাবে স্থানান্তরিত হলে ভাষা দিবসে সাংস্কৃতিক কর্মীদের দ্বারা বড় আন্দোলনের সম্ভবনা রয়েছে।সেই সাথে জনগনের স্বার্থ রক্ষায় ব্যার্থ হলে আগামী পৌর ভোটে প্রভাব পড়তে পারে।

Ads