সবজি ক্ষেতে ব্যস্ত রংপুর অঞ্চলের চাষিরা
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:০১ পিএম
ছবি-প্রতিদিনের চিত্র
রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা সবজি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। অথচ এক সময় ধান চাষে নির্ভরশীল ছিল এ অঞ্চলের কৃষকরা। কম খরচে অল্প সময়ে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ধানের পাশাপাশি আগ্রহ বাড়ছে সবজি চাষাবাদে। আর তাই সবজি ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ ও পীরগাছাসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটলে ক্ষেতজুড়ে উঁকি দিচ্ছে তরতাজা সবজি। বিস্তৃত এই সবুজের বুকে শোভা পাচ্ছে শিম, করলা, লাউ, কপি, বেগুনসহ নানা জাতের সবজি। যেন সতেজ সবজির সাথে হাসছে কৃষক।
এদিকে সবজি চাষাবাদে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে সবজির উৎপাদন বাড়লেও প্রকৃত চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্য মূল্য থেকে। অথচ গ্রামের সবজি ক্ষেত পার হয়ে হাট-বাজারে পৌঁছলেই সবজির দাম হচ্ছে দ্বিগুন থেকে তিনগুন।
রংপুরের রাণীপুকুর গ্রামের কৃষক সাহেবুল মজনু ও লতিবপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, তাদের মতো অনেক কৃষকই এখন ঝুকছেন সবজি চাষে । কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অল্প সময়ে ফসল তোলার পাশাপাশি সবজি চাষে রোগবালাই ও লোকসানের শংকা কম । হারাগাছের নাজিরদহ গ্রামের কুদ্দুস আলী ও সোনাতন গ্রামের আশরাফুল আলম বলেন, আগে তারা শুধু ধান চাষে নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে ধানের পাশাপাশি সবজিও আবাদ করছেন। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে ভালো ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় সবজির চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে।
রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হাসান সারোয়ার বলেন, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন কাছাকাছি থাকায় কৃষকরা সবজিতে ভালো দাম পাচ্ছেন। এখন বাজারে সবধরণের ফসলের উৎপাদন সমান হওয়া এই অঞ্চলের কৃষকরা আগের তুলনায় সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়ছে।
অন্যদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় দুই হাজার হেক্টর কম জমি সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আবাদ বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৭শ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে।
এসময় তিনি বলেন, রবি মৌসুমে সবজি আবাদে কৃষকরা লাভবান হবে। কারণ এবার আবহাওয়া পুরোপুরি সবজি আবাদের অনুকূলে আছে। এখন বাজারে ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, টমেটোসহ শাক-সবজির দামও ভালো যাচ্ছে।





















