রক্তিম ও নীল কষ্টের ভালোবাসা তুমি

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:৪৯ পিএম


রক্তিম ও নীল কষ্টের ভালোবাসা তুমি

আমি দূর আকাশের কালো মেঘ দেখেছি, আমি বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টির শব্দের অর্থ বুঝতে পেরেছি কিন্তু কখনও তোমার ভালোবাসার রংয়ের অর্থ বুঝতে পারিনি। তুমি অহমিকা ন‌ও তবুও ছিলো তোমার অহংকার। তুমি আকাশের কোনো রং ন‌ও তবুও তোমার নাম ছিলো সেই রংয়ের নামে "নীল"নীলিমা। এটাই বুঝি ছিলো তোমার অহমিকা। এক ভালোবাসার নতুন নিস্তেজ হয়ে যাওয়া ফুলের সুরভীর ঘ্রাণ হীণ ঠিক ঝড়ে যাওয়া শুকনো ফুলের পাপড়ির মতোই। আমি তবুও আমার বিশ্বাসকে বিকশিত করতে পারিনি, কেননা আমি বুঝতে পেরেছিলাম, যে তোমার ভালোবাসা ছিলো নিষিদ্ধ কোনো এক অনন্যা নারীর ভালোবাসা। যে ভালোবাসা কারো জীবনের সাথে মিশিয়ে নিলে তাহবে ঐ সুপুরুষের জন্য এক বিষধর কালনাগিনী সাপের বিষের মতোই । আমার ভাগ্য ভালো তা'না হলে আমি কেনোইবা তোমাকে পাগলের মতো ভালোবেসে যাবো যার ফলাফল হবে অক্ষুন্ন ও অকল‍্যানকর। আমি তবুও ভালোই আছি, যে ভালোটুকু তোমার মধ্যে আজ আর নেই।ভালো থেকো ঐ দূর আকাশের জ্বলে থাকা তারকা হয়ে শুধু একজন নারী হয়ে থাকবে যে কিনা সব সময়ে জ্বলতে পারবেনা ঐ দূর আকাশে, থাকবে সবসময় মেঘে ঢাকা পরে।শুধু নিয়মের মাঝেই থাকতে পারবে তুমি,আর যদি তুমি সত্যি সত্যি কারো ভালোবাসার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিতে পার, তাহলে তোমাকে নিয়ম বেঁধে জীবন অতিবাহিত করতে হবেনা একাকী ভাবে। আমার আকাশে আজ মেঘ জমে আছে মেঘ থাকা সত্ত্বেও আমি ঐ নীলার,নীল ভালোবাসাকে বুকের গহীনে লুকিয়ে রেখেছি।তবে কেনো যেন মনে হয় আমার কাছে রাতের আকাশটা বোধ হয় ঢেকে আছে গায়ের মধ্যে কোনো কালো চাদর জড়িয়ে। তখন  তাকে দেখতে মনে হয়ে থাকে চাঁদের অন্য কোনো ছায়া ঠিক যেন ধ্রুব তারা। এযেন দেখতে আমার পূর্ব পরিচিত সেই মানসীর মতোই। সত্যিই আমি ভেবেে পাচ্ছিনা এতো হুবো হুুব কিভাবে মিল থাকে বিধাতা যেনো তার হতের অসীম ছোঁয়া দিয়ে সৃৃষ্টি করেছেন? ঠিক যেন দেখতে মনে হয়েছিল আমার নীল নীলার মতোই। আমার কথা শুনে পাশেই দাড়িয়ে ছিল আমার বাল‍্য বন্ধু মিলন তখন বন্ধুটি আমার কথা শুনে বলেই ফেললো আজও কি তোর মাথায়  ভুত চেপেছে নাকি? যাক অনেক হয়েছে এবার চল সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

তবে সত্যিই যে ভূত চেঁপে তা কিভাবে বুঝাই বন্ধুকে। আজ মনে হচ্ছে চাঁদটা যেন মেঘের আড়ালে পালিয়ে আছে, এমন মনে হয় কেনো? সত্যিই কি মেঘের আড়াল লুকিয়ে আছে দূর আকাশের চাঁদটি? তবুও দূর আকাশের চাঁদটা মেঘেদের জন্য সবসময় বেঁচে থাকবে এক স্বপ্ন নিয়ে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। এভাবে আমি ভাবনার সাগরে ভাসতে ভাসতে এক সময়ে চলে আসলাম বাসার সামনে। কিন্তু বাসাতে ঢুকতেই যেনো একাকী মনে হতে লাগলো, ঘরেতে কিছুতেই ভালো লাগছিলোনা কেনো যেন বার বার বাহিরের পানে মন ছুটে যেতে চাইলো। তবুও কিছু সময় জানালায় দাঁড়িয়ে গাছের ফাঁকে ফাঁকে মাথাটা ঘুরিয়ে অতিকষ্টে এক ঝলক দূর আকাশের চাঁদটি দেখে নিলাম,এর কিছুক্ষণ পড়ে আমি ঘর থেকে বের হয়ে হাঁটু মুড়ে বশে পড়লাম চাঁদকে আরো ভালো করে দেখার জন্যে।মনে মনে ভাবতে ছিলাম কি সুন্দর জোৎস্নার নিরব রাত্রি,এই জোৎস্নার আলোকে আরো ফুটিয়ে তুলেছে ঐ মেঘের সাথে খেলা করা দূর আকাশের শেষ সীমান্তে লুকিয়ে থাকা ঐ চাঁদের হাসিটুকু। এযেন এক বিষন্নতার মনোমুগ্ধকর একটি ভালোবাসার রাত্রি।

আমার মনে হয়েছিল যদি বারান্দার বাহিরে এসে একটু দাঁড়িয়ে থাকতে পাড়তাম তাহলে হয়তো আমার আকাশের ঐ সুন্দর চাঁদটিকে আরো সুুন্দর করে দেখতে পাড়তাম যদি এই বাড়ির সীমানা পের হয়ে আরো একটুু মাঠের দিকে যেতে পাড়তাম তাহলে আমি আরো সুুন্দর রুপে রূপাাান্তরিত করতে পাড়তাম আমার জীবনের অক্ষুন্ন ভালোবাসাকে। আমরা যদি কোনো মাঠের মধ্যে গিয়ে ঐ দূর আকাশের চাঁদকে দেখতে পাই,তাহলে মনে হবে যেন ঐ চাঁদ আরো বেশী কাছে চলে এসেছে। চাঁদ যেন তার দুরত্ব কমিয়ে নিয়ে এসেছে আমাদের কাছে ঐ পৃথিবী থেকে। এসব কথা আজ কেনোই বা আমি বার বার বলে যাচ্ছি,তাহলে কি আমার প্রাণের মাঝেতে নতুন কোনো সুরের আবাশ বয়ে যাচ্ছে নাতো? ক্রমশভাবে আমার দুরচিন্তা বেড়েই চলছে। একটি কথা মনে পড়ে গেলো আজ তো ছিলো সেই রাত্রি, যে রাত্রিতে আমাদের সবকিছুই ছিলো আনন্দের প্রহোরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফুলের সুঘ্রাণ। আমাদের মধ্যে মাঝ রাতের মাধুর্য নিয়ে এসেছিলো এক ভালোবাসা। তখন ছিলনা কোনো দুখের হাতছানি ছিলোনা কষ্ট, শুধু ভালোবাসা আর ভালো লাগার গল্প বলার আনন্দ। হঠাৎ আজ আমি কেনো এসব নিয়ে চিন্তা করছি? নিজের কাছে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করছি অবশেষে আমি পেরেছি এবং অন্যকে ও বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আচ্ছা আমার এসব দুশ্চিন্তার কারণ কি হতে পারে? এর কি কোনো ব‍্যখ্যা কারো জানা আছে?

কারো জানা নেই কিন্তু আমার জানা আছে কারণ আমিই এই ভাবনার নায়ক আর আমার নায়িকা ঐ পূর্ণিমা রাতের সাথেই ঠিক রানী তারকার পাশাপাশিই বসে বসে গল্প করছে। রানী তারকার বান্ধবী হয়ে। আমি কি বলতে যে কি বলি!আজকাল সব কিছুই এলোমেলো মনে হতে থাকে প্রতিটি মূূূহূর্তে। আর যেনো অনেক কিছু ভুলে যাই আবার ভুলকরে ফেলি অনেক সময় অনেক সহজ কাজকে। যেনো কোনো কথাই ঠোঁটের মাঝখানে বেশি সময় আটকিয়ে রাখতে পারিনা। আচ্ছা আমি কি তাহলে পাগল হয়ে যাইনিতো?নাকি ঐ পাখিদের মতো করে উড়ে যাবো স্বপ্নের অন্য পৃথিবীতে।তা হলেও অনেক ভালো হতো।পৃথিবীর সব দেশের মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের দুখ কষ্টগুলো দেখে আসতে পারতাম সহজেই। সত্যিই যদি পাখি হতে পারতাম? তাহলে আমি লুকিয়ে থাকতাম এবং শেষ রাতের সময়ে ঝড়িয়ে দিতাম পথিকের চলার পথে আমার সমস্ত পালক। অথবা আকাশের সিঁড়ি বেয়ে যখন খুশী মনে উড়ে উড়ে রাতের প্রকৃতির দৃশ্য দেখতে পেতাম তখন আমার উড়তে পাড়ার সার্থকতা আমি বুঝতে পারতাম। আমি সীমানা থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আবার ফিরে আসতাম আমার ঠিকানায়। আমার‌ নিড়েতে সুখের ছোট্ট নীড়ে।

আমি উড়তে উড়তে অনেক উপরে যেতাম,আমি আমার কল্পনার মাঝেই হয়তো অভিশাপের জ্বরে আরো বেশী আকাশটাকে ছুঁয়ে দেখার আকুতি প্রকাশিত করতে পাড়তাম এবং দেখাতাম এই পৃথিবীর অন্য সকল মানুষের মধ্যে জমে থাকা কষ্টটুকু। আমি উড়ে যেতাম ঐ না ফেরার দেশে,তাইতো রাত জেগে আমি মিনতি করছি হে আল্লাহ তুমি আমায় পাখী করে দাও হে নীল আকাশ,আমি তোমার একমাত্র ভালোবাসার রঙ্গিন স্বপ্ন ছিল।

Ads