কুড়িগ্রামে হাড় কাঁপানো শীত, দুরবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষ
০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:২৫ পিএম
কুড়িগ্রাম জেলায় হাড় কাঁপানো শীতে বেশ কষ্টে দিনযাপন করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম। জেলায় হাড় কাঁপানো শীতে বেশ কষ্টে দিনযাপন করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাড়ছে শীতবস্ত্রের চাহিদা। ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে যা বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভারত সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় পৌষের প্রথম থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। দিন-রাতে প্রবাহিত হচ্ছে হিমেল হাওয়া। কমে গেছে দিন ও রাতের তাপমাত্রা।
কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে পরায় পুরো জেলায় প্রতিদিন বাড়ছে ঠাণ্ডার তীব্রতা। আর এই ঠাণ্ডা মানুষের শরীরে বিধছে সুচের মতো। সচ্ছলরা শরীরে মোটা কাপড় জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করলেও নিম্নবিত্ত, অসচ্ছল ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন মহাবিপদে। হাড় কাঁপানো এই শীতে কাঁপছেন তারা। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা। সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে বেড়েছে শীত বস্ত্রের চাহিদা। এই জেলার অধিকাংশই খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত এলেই তাদের কষ্ট ও দুর্ভোগ বাড়ে।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, ‘পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় শীতবস্ত্রের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার। আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি ৭ হাজার ৫০০ কম্বল, যা ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আরও ১৫ হাজার কম্বলের চাহিদা পাঠিয়েছি। সেগুলো পেলে বিতরণ করা হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে ৫০০ ও একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার দেওয়া ৩০০ কম্বল বিতরণ করেছি। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, ইতোমধ্যে জেলায় ৩৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে নতুন করে এক লাখ ১৪ হাজার কম্বল চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ৫০০ কম্বল শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করেছেন। কিন্তু চাহিদা রয়েছে আরও অনেক বেশি।
এদিকে আগামী এক সপ্তাহে জেলার তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুহিন মিয়া।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।




















