শ্বশুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ না দেয়ায় গৃহবধূকে বেধম পিটুনী

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫০ এএম


শ্বশুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ না দেয়ায় গৃহবধূকে বেধম পিটুনী

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ না দেয়ায় সাদিয়া আকতার শাহনাজ(২২) নামে এক গৃহবধূকে বেধম পিটুনী দেয়ার অভিযোগ। গৃহবধূ সাদিয়া আকতার শাহনাজ উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর ভেটেশ্বর গ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী।

 

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার মদনপুর ভেটেশ্বর গ্রামের মৃত খইমুদ্দিনের ছেলে এনামুল হক ও আব্দুর রাজ্জাকের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিবাদ চলে আসছে তাদের চাচা সামছুল হকের। সেই বিবাদের জেরে চাচাকে  ঘায়েল করতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দেয়ার কুটকৌশল তৈরী করে এনামুল ও আব্দুর রাজ্জাক। এজন্য এনামুলের স্ত্রী সাদিয়া আকতার শাহনাজকে চাচা শ্বশুর সামছুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষনের চেষ্টা ও কু প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ আনায়ন করতে চাপ দেন স্বামী এনামুল হক ও ভাসুর আব্দুর রাজ্জাক।

 

স্বামী ও স্বামীর ভাইয়ের দেয়া কুটকৌশলে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ আগস্ট দুপুরে স্বামীর বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাদিয়া আকতার শাহনাজকে বেধম পিটুনী দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যয়ে তাকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে চাচা সামছুলকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালায়। তার আত্নচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে তাকে ঘরে আটকে রাখেন হামলাকারী রাজ্জাক।

 

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই দিন মধ্যরাতে  তার আত্নীয় স্বজনরা এসে গৃহবধু সাদিয়া আকতার শাহনাজকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পরদিন আহত গৃহবধূ সাদিয়া আকতার শাহনাজ বাদি হয়ে স্বামীর ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও স্বামী এনামুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগ দায়ের ৭দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ আইনী কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আপোষ মিমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন বলে বাদির অভিযোগ।

 

ঘটনার ৭দিন পর সোমবার(৬ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের বেডে থাকা আহত গৃহবধূ সাদিয়া আকতার শাহনাজ বাংলানিউজকে বলেন, চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ না দেয়ায় তারা আমাকে লোহার রড দিয়ে সারা শরীরের রক্তাক্ত জখম করে হত্যার চেষ্টা চালায়। আমাকে মেরে ফেলে চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার কৌশলও করেছিল তারা। থানায় অভিযোগ দেয়ার ৭দিন হলেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুলিশ আপোষ মিমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে।

 

আদিতমারী থানার পরিদর্শক(তদন্ত) গুলফামুল হক মন্ডল বলেন, আপোষ করতে বলা পুলিশের কাজ নয়। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া আমাদের কাজ। যা চলমান রয়েছে।

 

Ads