o অভিজ্ঞতাকে বাড়িয়ে রাখছেন মিরাজ o রাজশাহীতে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে র‌্যালি ও মানববন্ধন o খল-অভিনেতা বাবর মৃত্যুবরণ করেছেন o তারকা ছাড়াই বেতিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয় o সুলতান মনসুরের বঙ্গবন্ধু সাধনা

আজ সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  অর্থনীতি  >  আইসিডি বন্দর স্থবীর, ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ

আইসিডি বন্দর স্থবীর, ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ

পাবলিশড : ২০১৯-০৭-০৪ ১৮:৩৫:২১ পিএম আপডেট : ২০১৯-০৭-০৫ ১২:৫২:১৪ পিএম

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়ে এবং সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এর অবহেলা এবং যোগসাজসের কারণে আইসিডি কমলাপুরগামী হাজার হাজার পণ্যবাহী কন্টিনার দীর্ঘ জট এ আটকে আছে চট্টগ্রামবন্দরে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা আইসিডি কমলাপুর কাস্টমস হাউজ এর সামনে ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়ে এবং সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড অসহযোগী কর্মকান্ড নিরসন এবং দেশ ও জাতির সামনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।

উপস্থিত বক্তারা বলেন- বিদেশ থেকে আমদানী পণ্য জাহাজীকরণের মাধ্যমে ১০-১২ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌছালেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি বন্দরে এসে পৌছাতে সর্বনিম্ন ৩০দিন লেগে যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেক আমদানীকারকের কন্টিনার ৪০/৫০ দিন পরেও আসতে দেখা গেছে জানালেন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ভুক্তভোগীরা।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা কাস্টম এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি জানান- আইসিডিগামী কন্টেনার চট্টগ্রাম হতে দ্রুত আইসিডিতে আনার জন্য আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, শুল্ক কর্তৃপক্ষ, শিপিং এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সকলের সংগে একযোগে কাজ করতে চান। উল্লেখ্য যে,  ডিসিএএ নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত বিষয়ে সংস্থাগুলির সাথে অনেকবার আলোচনায় বসেও এর সমাধান করতে পারেনি।

বক্তারা বলেন উপরোক্ত সংস্থাসমূহ যদি সমন্বয় না করে তাহলে আগামীতে রাষ্ট্র বড়ধরণের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। অন্যদিকে কন্টিনার ডেমারেজ এর কারনে পণ্য খালাসের পরে পণ্যের দাম দিগুণ গুণতে হবে সাধারন ক্রেতাদের।

ডিসিএএ পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করেছেন- ১। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেনার অবতরণের পরে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে আইসিডি বন্দরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ২।কোন কারণে কন্টেনার পরিবহনে বিলম্ব সময়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর প্রান্তের ডেমারেজ চার্জ আমদানীকারকদের নিকট থেকে (শিপিং এজেন্ট এর মাধ্যমে) আদায় করা যাবে না, ৩। চট্টগ্রাম বন্দর ও রেল কর্তৃপক্ষের অপারগতার কারণে আইসিডিগামী কন্টেনার বিলম্বে আছে। এ বিলম্বে আসার কারণে আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ৪। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেনার পরিবহনের জন্য টাইম সিডিউল নির্ধারণ করাসহ আরো কিছু প্রস্তাব পেশ করেন তারা, ৫। আজ থেকে কন্টিনার বিলম্বে আসার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানীকারকের কাছে কোন ধরণের বিলম্ব চার্জ আরোপ করবে সে নির্দেশনা চেয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান এর কাছে, ৬। আমদানীকারকের কাছ থেকে এযাবত যত পরিমান স্টোর রেন্ট নেওয়া হয়েছে সেটি এসেসম্যান্ট করে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ফেরত প্রদান করার জন্য আহবান করা হয়েছে।

বক্তরা বলেন আইসিডি বন্দরের বর্তমানে অবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য বাই রোডে জাতীয় রাজস্ববোর্ড তাদের নির্দেশনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন ১০০ কন্টিনার নিয়ে আসলে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় এ পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে দাবিত হবে।

রেলওয়েকে আরেকটি বিকল্প রাস্তার পথ অনুসরণ করতে নির্দেশনা প্রদান করলেন ঢাকার কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন সভাপতি। তিনি বলেন এক প্রান্ত থেকে যদি ৪টি করে ইঞ্জিন যাতায়াত করে তাহলে এই জট থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে আশা প্রকাশ করেন। অনেক ইঞ্জিন অকেজো পরে রয়েছে সেগুলো দ্রুত সংস্কার করে কাজে লাগাতে অনুরোধ জানান।

আইসিডি পরিচালনার জন্য রেলওয়ে একটি এডভাইজার কমিটি গঠন করে এবং সে কমিটির মাধ্যমের বহু বছর কাজ চালিয়ে গেছেন, তখন এধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। অথচ এ কমিটি বন্ধ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে অনুনয় রেল কর্তৃপক্ষের এডভাইজারীর সাথে শুধুমাত্র ১টি মিটিং করতে সম্মত হয়েছে বললেন শেখ মোহাম্মদ ফরিদ। ঐ মিটিংয়ে তখন ৩০০ বিটিইউএস পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তখনকার অপারেশন ম্যানেজার। বর্তমানে ২৫০ টিইউএস দাবী করা হলেও এ পর্যন্ত একটি মিটিং করা সম্ভব হয়নি। মি: ফরিদ প্রশ্ন রাখেন রেলওয়ে মহাপরিচালকের কিভাবে সাহস হয় আইসিডির মত বন্দরকে নিয়ে এভাবে খেলা কারার। তিনি অভিলম্বে এ খেলা বন্ধ করার অনুরোধ জানান।