o ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের o বিশ্বকাপে সাকিবের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি o ডিজিটাল পদ্ধতিতে একদিনে সব মুক্তিযোদ্ধাকে সনদ দেয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী o বুধবার থেকে কমতে পারে তাপপ্রবাহ o ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৯৭০ কোটি: জাতিসংঘ

আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  মতামত  >  সার্বিক বাজেট প্রণয়নে কৃষি শুমারির গুরুত্ব অপরিসীম

সার্বিক বাজেট প্রণয়নে কৃষি শুমারির গুরুত্ব অপরিসীম

পাবলিশড : ২০১৯-০৬-১২ ১০:৫৪:০০ এএম

।। ড. মো. হুমায়ুন কবীর ।।

নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও উদ্যোগ রয়েছে। তারমধ্যে কৃষি শুমারি অন্যতম। এতদাঞ্চলে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মতো নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছর, ১৯৯৬ সাল এবং ২০০৮ সালে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৯ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের কৃষি শুমারি। দেশের ইতিহাসের ষষ্ঠ এ কৃষি শুমারি-২০১৯ এর শ্লোগান হলো, ‘কৃষি শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’।  এতে পল্লী এলাকায় গড়ে ২৪০ টি খানা (পরিবার), পৌরসভা এলাকায় গড়ে ৩০০ খানা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৫০ টি খানা নিয়ে একটি গণনা এলাকা গঠন করা হয়েছে। এভাবে সারাদেশে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২১১ জন গণনাকারী কাজ করছে। নির্ভুলভাবে তাদের কাজটি সম্পন্ন করার জন্য তিন স্তরের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সুপারভাইজার, তদারককারী ও সমন্বয়কারী নিযুক্ত করা হয়েছে।

কৃষি শুমারিতে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির মালিকানা, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরন, চাষ পদ্ধতি, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির সংখ্যা, মৎস্য খামার, কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাছাড়াও দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ভূমির ব্যবহার, চাষযোগ্য জমির প্রকার, ফসলের বৈচিত্র, কৃষি উপকরণ, সেচ যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত পরিসংখ্যান, কৃষি বিষয়ক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন, সর্বোপরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্য সরবরাহ করার লক্ষ্যে এ কৃষি শুমারির বিকল্প নেই। এরমধ্যে কৃষি জোনাল অপারেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন জোনের গঠন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া জিও-কোড তালিকা, মৌজা ও মহল্লা ম্যাপ যাচাইপূর্বক হালনাগাদকরণ, গণনা এলাকা নির্ধারণ ও ম্যাপে তা যাচাই-বাছাই করে চিহ্নিত করা হবে। এতে প্রথম জোনাল অপারেশন কার্যক্রমের ভুলত্রæটি সংশোধনেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা যায়।  

অর্থনীতিতে কৃষির প্রকৃত অবদান নির্ণয়ে কৃষি শুমারির আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের পর্যায়ক্রমিক যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। মানুষের স্বাস্থ্যের অবস্থা জানার জন্য যেমন স্বাস্থ্য  পরীক্ষার প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনি অর্থনীতির স্বাস্থ্যের অবস্থা জানার জন্যও তেমন কৃষি শুমারি করা হয়। এ শুমারির মাধ্যমে শুধু ধান ও পাটই নয়, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ইত্যাদি সব কিছুরই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস’ (বিবিএস) এ শুমারিটি পরিচালনা করছে। ছয়টি প্রধান ফসল যথা- আউস, আমন, বোরো, গম, আলু ও পাট এবং ১২০টি অপ্রধান ফসলের হিসাব এতে নেওয়া হচ্ছে। অতীতে কৃষি শুমারিতে শুধু অস্থায়ী ফসলের হিসাব নেওয়া হতো, কিন্তু এবার স্থায়ী ফসলের হিসাবও নেওয়া হচ্ছে।

চলতি সংসদ অধিবেশনেই (১১ জুন ২০১৯ তারিখ থেকে শুরু হওয়া) পেশ করা হচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। এ বাজেট পেশের পূর্বে কৃষি শুমারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদি দিয়েই প্রণীত বাজেট বাস্তবায়ন করা সহজ ও ফলপ্রসূ হবে আগামীতে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বয়ং পরিকল্পনামন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান বাংলাদেশের একনম্বর নাগরিক মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মো. আবদুল হমিদ এঁর খানা জরিপের মাধ্যমে ৯ জুন তারিখে তা উদ্বোধন করেন। দেশের যেকোন কিছুর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন। আর পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত তথ্য। আর সেই তথ্য পাওয়ার জন্য শুমারির বিকল্প নেই। কাজেই ক্রমঅগ্রসরমান অর্থনীতির জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তদানুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নের জন্যই এ ষষ্ঠ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো, তথ্য সংগ্রহের কাজটি কতটুকু নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে তার উপর অনেককিছু নির্ভর করে। যদি তথ্যের গড়মিল থাকে তাহলে পরিকল্পনা সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় না। আরো যে বিষয়টি এর সাথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে তাড়াতাড়ি নির্ভুল একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা। দেশে বিভিন্ন সময়ে অনেক জরিপকার্য সম্পন্ন হলেও সঠিক সময়ে তার প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ার কারণে এর সুফল পাওয়া যায় না। এখানে বলা হয়েছে যে, শুমারি সম্পন্ন করার তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। এ তথ্যপ্রযুক্তি যুগে যদিও ছয়মাস অনেক সময় তারপরও এগুলোকে আরো সহজিকরণ করে একটি স্থায়ী ডাটাবেজ তৈরীর উদ্দেশ্যে পুরো বিষয়টিকেই সফটওয়ারের আওতায় নিয়ে নির্ভুল ও কম সময়ের মধ্যে করা উচিত। আশাকরি এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ ব্যাপারে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন- তেমনটাই প্রত্যাশা। আর আমাদেরও উচিত সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য গ্রহণকারীদেরকে সহযোগিতা প্রদান করা। তাহলেই কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ কৃষিতে আরো এগিয়ে যাবে।       
 
লেখক: কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়