ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত, পশুখাদ্য খাচ্ছেন গাজাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩২ পিএম


ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত, পশুখাদ্য খাচ্ছেন গাজাবাসী

ছবি- সংগৃহীত।

 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্বিচার হামলা ও বর্বর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানও চালাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এদিকে গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তরে বসবাসকারী কিছু বাসিন্দা বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে পশুখাদ্য খাচ্ছেন।

 

ইসরায়েলি হামলার মুখে দিন দিন খারাপ অবস্থা হচ্ছে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি। দিনের পর দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। এমনকি শিশুরাও অভুক্ত থাকছে, যথাযথ সুরক্ষা পাচ্ছে না নবজাতকরা। এমন পরিস্থিতিতে গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তরে বসবাসকারী কিছু বাসিন্দা বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে পশুখাদ্য খাচ্ছেন। বেঁচে থাকার জন্য ময়দার বিকল্প হিসেবে পশুখাদ্য পিষে খাচ্ছে গাজাবাসী। এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিই এখন গাজাজুড়ে।

 

তবে পশুখাদ্যের মজুদও এখন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অসহায় এসব গাজাবাসী। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, গাজার উত্তরে শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টি চরমভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া অপুষ্টির কারণে উত্তরের ১৫ শতাংশ শিশুর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

বেইত লাহিয়ার স্থানীয় চিকিৎসা সহায়তাকর্মী মাহমুদ শালাবি বলেন, মানুষ পশুখাদ্যের জন্য ব্যবহৃত শস্য পিষে পিষে ময়দা তৈরি করছিলেন, কিন্তু তাও এখন ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ বাজারে এখন পশুখাদ্যও খুঁজে পাচ্ছে না। এটি আজকাল গাজার উত্তরে এবং গাজা সিটিতে অপ্রতুল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বাজার থেকে টিনজাত খাবারের মজুদও উধাও হয়ে যাচ্ছে।’

 

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা ওচা বলছে, গত মাসে গাজার উত্তরে অর্ধেকেরও বেশি ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরায়েল এবং কীভাবে ও কোথায় ত্রাণ বিতরণ করা হয় তাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হস্তক্ষেপ বাড়ছে। সংস্থাটি আরও বলছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী আনুমানিক তিন লাখ মানুষ মূল সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং দুর্ভিক্ষের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখোমুখি।

 

এই অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের। তাদের দাবি গাজায় কোনো অনাহার নেই। এ ছাড়া ইসরায়েল গাজায় পাঠানো মানবিক সহায়তা বিতরণে বাধা দেয় না- বলছে দেশটি। তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) এই সপ্তাহে বিবিসিকে জানিয়েছে যে, উপত্যকাটির উত্তরে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি ত্রাণবাহী ট্রাকের মধ্যে চারটিই ইসরায়েলি বাহিনী থামিয়ে দিয়েছে।

 

খাবারের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের মানুষগুলো পানযোগ্য পানির সরবরাহ খুঁজে পেতে লড়াই করছে। এমনকি পানি পাওয়ার জন্য মাটিতে খনন করছে গাজাবাসী।

 

রাফাহর সব বাসিন্দাকে সরাতে চান নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহর সব বাসিন্দাকে সরাতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) শিগগিরই এ-সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইডিএফ নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা শিগগিরই গাজায় বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছি এবং সেই অভিযানে বেসামরিক লোকজন হতাহতের ঘটনা এড়াতে চাইছি। এ কারণেই নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাফাহ থেকে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের সরাতে চাইছে এবং আইডিএফকে এ-সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে।’

 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় বসবাস করেন ১৩ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি। তবে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অভিযান শুরুর পর তাদের একটি বড় অংশই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। যে অল্পসংখ্যক ফিলিস্তিনি রাফায় এখন রয়েছেন, এবার তাদেরও সরানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।

 

গত বৃহস্পতিবার অবশ্য এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাসের সর্বশেষ ঘাঁটি হলো রাফাহ। শিগগিরই সেখানে ইসরায়েল অভিযান শুরু করবে।’

 

আইডিএফের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, হামাসের অন্তত ৪টি ব্যাটালিয়ন আত্মগোপন করে আছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এই অভিযানের মিশন হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। রাফায় (হামাসের) ৪টি ব্যাটালিয়নের সঙ্গে মোকাবিলা না করে এই মিশন শেষ করা সম্ভব নয়।’

 

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে ধরেও নিয়ে যায়। অভূতপূর্ব সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

চার মাস ধরে চলমান সেই অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৬৮ হাজার। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় বাড়িঘর হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন আরও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

Ads