সোনাহাট স্থলবন্দরে ১০বছরেও চালু হয়নি ইমিগ্রেশন

হরেন্দ্রনাথ বর্মন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৫ পিএম


সোনাহাট স্থলবন্দরে ১০বছরেও চালু হয়নি ইমিগ্রেশন

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

রাজস্ব আয়ের বিপুল সম্ভাবনাময় স্থলবন্দর উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভ‚রুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর। এ বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও দীর দীর্ঘ ১০বছর থেকে ইমিগ্রেশন চালু না থাকায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রসার হচ্ছে না। তাই ইমিগ্রেশন চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

 

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ১৮তম স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে সোনহাট স্থলবন্দর। চালুর পরই ব্যবসায়ীদরে কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে এ বন্দর। দীর্ঘ ১০বছরেও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বারবার ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রæতি দিলেও আজও চালু হয়নি ইমিগ্রেশন। ভারতের আসাম, মেঘালয়সহ সেভেন সিষ্টার খ্যাত রাজ্যগুলোর সঙ্গে পণ্য আমদানি ও রফতানির জন্য সোনাহাট স্থলবন্দর চালু হয়।

 

দেশের ১৮তম এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১০টি পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে সব পণ্য রফতানি করতে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। তবে বন্দর চালুর দীর্ঘ সময় পার হলেও এ পর্যন্ত শুধু কয়লা ও পাথর আমদানি করা হয়। এছাড়া হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য রফতানি করা হয়। এতেই বছরে প্রায় ১২কোটি টাকা আয় হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইমিগ্রেশন চালু না থাকায় ব্যবসায়িক সম্পর্ক ব্যহত হচ্ছে। পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া মাঝেমধ্যেই আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে প্রায় ৩হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইমিগ্রেশন না থাকায় ৪৫০কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করতে হয়। ফলে অনেক সময়েই জরুরি ব্যবসায়িক আলাপ সম্ভব হয় না। এতে করে ভোগান্তির পাশাপাশি অর্থ ও সময় অপচয় হচ্ছে।

 

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইমিগ্রেশন চালু হলে ভারতের সেভেন সিস্টারখ্যাত রাজ্যগুলোসহ ভুটানের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সুবিধা হবে সোনাহাট স্থলবন্দরের। সোনাহাট স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরকার রাকীব আহমেদ জুয়েল জানান, ইমিগ্রেশন চালু হলে উভয় দেশের মানুষের উপকার হবে, সম্পর্ক উন্নত হবে। এছাড়া ব্যবসার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

 

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সোনাহাট স্থল বন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর সিদ্ধান্ত হলে বন্দরের পক্ষ থেকে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

 

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে আশা প্রকাশ করে বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমাদের পুলিশ সদস্যদের তিনটি রুম বরাদ্দ পেয়েছি। আশা করছি দ্রæত সময়ের মধ্য ইমিগ্রেশন চালু হবে।

 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইমিগ্রেশন চালুর প্রস্তুতি চলছে। এখন এটি দুই দেশের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলে দ্রæত ইমিগ্রেশন চালু হবে।
 

 

Ads