ফুলবাড়ীতে কয়েকদিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা

আমিনুল ইসলাম

২০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৭ পিএম


ফুলবাড়ীতে কয়েকদিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত তিনদিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা। এতে ক্রেতাসাধারণ স্বস্তি পেলেও আলুর ন্যয্য দাম না পেয়ে লোকসানে পড়েছেন আলু চাষিরা।
 

শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ফুলবাড়ী সবজি বাজার ঘুরে এবং দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুইদিন আগেও লাল পাটনাই জাতের আলু বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। একই আলু শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা কেজিদরে। সাদা পাটনাই আগে প্রতিকেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। কাটিনাল জাতের আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে বিলাতি জাতের আলু আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে।

 

সবজি বাজার করতে আগে সাকিব রহমান বলেন, দুইদিন থেকে অলুর দাম কমতির দিকে থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অনেক স্বস্তি হয়েছে। সবজির মৌসুমে যেভাবে সবজির দাম বেড়ে গেছে তাতে স্বস্তি হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতা সাধারণ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো প্রয়োজন মাফিক সবজি কিনতে পারছিলেন না।

 

অপর ক্রেতা জহিরুল ইসলাম, এমনিতেই সব সবজির দাম বেশি। তার ওপর আলুর দাম ছিল আগুন। গত সোমবার প্রতিকেজি লাল পাটনাই প্রতিকেজি ৪৫ টাকা দরে কিনেছেন। তবে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বাজারে এসে দেখেন একই আলু ৩২ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এজন্য তিনি পাঁচ কেজি আলু কিনেছেন। এ রকম দাম থাকলে সকলের জন্য ভালো হয়।

 

হঠাৎ করে আলু দাম কমে যাওয়ায় আগাম জাতের আরু চাষিরা পড়েছেন বিপদে। চাষে খরচ বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তারা। হতাশ আলু চাষিদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। ফলনও বেড়েছে। দুইদিন আগে যারা আলু তুলেছেন তারা লাভবান হয়েছেন। তবে এখন যারা বিক্রি করছেন, তারা লাভবান হতে পারছেন না। তবে চাষাবাদ, সার, বীজ, সেচ, শ্রমিকসহ সব খরচের সমান টাকা উঠে আসছে।
 

পাইকারি বাজারে সব জাতের আলুর দাম কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও কমেছে বলে জানান পৌর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা সাজ্জামাল। এ কারণে দাম কম জানিয়ে তিনি বলেন, জোগান কমলে দাম বাড়বে। কাঁচাবাজারের পণ্যের সঠিকভাবে বলা যায় না। তবে এ দর থাকবে না। দিন দিন আগাম জাতের আলুর দাম কমবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলা পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নে ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ২২০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন কৃষক। দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা আলু তুলতে শুরু করেছেন। ফলন গত মৌসুমের চেয়ে বেশি হয়েছে। তবে হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। তবে দিন যত যাবে, আলুর দামও নিম্নমুখী হবে। তবে কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। এজন্য তাদের তেমন লোকসানে পড়তে হবে না। 

Ads