লালমনিরহাটে তিস্তার চরে কৃষকের মুখে হাসি, দ্বিগুন ফলনের আশা

ওসমান গনি

২৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:১৫ পিএম


লালমনিরহাটে তিস্তার চরে কৃষকের মুখে হাসি, দ্বিগুন ফলনের আশা

ছবি- সংগৃহীত।


লালমনিরহাটের তিস্তার চরে সম্প্রতি বন্যায় ভেসে আসা পলিযুক্ত পানির ফলে চাষাবাদে দ্বিগুন ফলনে চরাঞ্চলের মানুষের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। ধান ও ভুট্টার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে গেছে। ফলে কৃষকের মধ্যে অন্যান্য ফসলের আবাদের তোড়জোড় চলছে।


তিস্তার ধু ধু চরে পানির দেখা না মিললেও খেটে খাওয়া সাধারণ নারী-পুরুষ কৃষি কাজে লেগে পড়েছেন। এতে জেলার অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ বছর কয়েক দফা বন্যায় চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়লেও সর্বশেষ ধেয়ে আসা বন্যায় উজানের ঢলের সাথে পলিযুক্ত পানি চলে আসে। এতে বিস্তৃর্ন চরাঞ্চলে পলি পড়ায় ফলন ভাল হচ্ছে।  পলির প্রভাবে এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হচ্ছে।

 

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, লালমনিরহাটের বিভিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কৃষি আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে আলু, পেয়াজ, রসুন ও ভুট্টার চাষাবাদ হয়।

 

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তিস্তা চরে এবার ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব ফসল ঘরে তুলেছেন কৃষক। যা লক্ষমাত্রার থেকে দ্বিগুন প্রায়। লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ভুট্টার আবাদও ৩১ হাজার ৯শত হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছিলো। এছাড়াও জেলায় এবার ১২ শত হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষমাত্রা মির্ধারন করা হয়েছে। ২শত হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ অর্জিত হয়েছে। এখনো পেয়াজ ও রসুনের পরিসংখ্যান পায়নি কৃষি বিভাগ।

 

আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধনের কৃষক আউয়াল মিয়া, মহুবর রহমান বলেন, পলি পড়লে তেমন সার, কীটনাশক লাগেনা। ফলনও ভালো হয়। এবার চরে যে আবাদ হয়েছে তাতে কৃষকের ভাগ্য খুলে গেছে। আমরা ধান কেটে কাটাই মাড়াই শেষে ঘরে তুলেছি।

 

একই এলাকার কৃষক কাউয়ুম মিয়া বলেন, এবার আলুর দাম বেশি। আমাদের অনেকেই আগাম আলু লাগিয়েছিলাম। যার ফলনও খুব বেশি হয়েছে। আবার মৌসুমী আলু লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের কৃষক শ্রী মনোরঞ্জন রায় বলেন,"তিস্তার চরে আমার আড়াই একর জমি আছে। বর্ষার পর এসব জমিতে চর জেগে উঠলে  আলু, পেয়াজ, রসুন ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করি। এসব সবজি বিক্রির পর খরচ বাদ দিয়ে তার প্রায় অর্ধেকের বেশি মুনাফা হয়"। এবার মুনাফাটা একটু বেশি হওয়ার আশা করছেন তিনি।

 

গোকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষক সামসুল হক বলেন, তিস্তার চরে তার দেড় একর জমি রয়েছে। তিনি অত্যান্ত আনন্দিত কন্ঠে বললেন, এবার ভাগ্যটা বুঝি একটু হবে। তিস্তায় তার জেগে ওঠা জমিতে প্রচুর পলি দেখতে পেয়েছেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবার তিনি তার সম্পুর্ন জমিতে আলু আবাদ করবেন।

 

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, এবার চরাঞ্চলের জমি গুলোতে পলি জমায় ধান ও ভুট্টার আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও আলু, পেয়াজ, রসুন ও মিষ্টি কুমড়ার ফলনও ভাল হবে। এজন্য কৃষি অফিস থেকে চরাঞ্চলের কৃষকদের এসব ফসল আবাদে পরামর্শ ও বিনামুল্যে বীজ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Ads