'এনআইকেডিইউ' হাসপাতালের দুই ডাক্তারের প্রতারনায় পঙ্গু হলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০১ পিএম


'এনআইকেডিইউ' হাসপাতালের দুই ডাক্তারের প্রতারনায় পঙ্গু হলেন এক নারী

ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম।

 

মোহাম্মাদপুরে ট্রাস্ট জেনুইন (টিজি) এক বেসরকারি হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় শাহিনুর বেগম নামের এক নারী পঙ্গুত্ব বরন এর খবর পাওয়া যায়। এতে ঘটনার মূল হোতা ও দালাল চক্রের অন্যতম সমন্বয়ক হলো ডা: আনিসুর রহমান বাবু ও ডা: এ.কে.এম শামসুদ্দিন এরা  সকলেই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের কর্মকর্তা এবং দালাল মো: বেলাল পন্ডিত তাদের বিভিন্ন রোগীদেরকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন।

 

রোগী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে তার শারিরীক সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলে উক্ত দুই ডাক্তার দালাল দিয়ে বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষা করানোর পর, ডাক্তার আনিসুর রহমান বাবু বলেন- "এটা সরকারি মেডিকেল, এখানে রোগীর অপারেশন করতে বেশি দেরি হবে রোগী অবস্থা ভালো না, রোগীকে আরো ভালো জায়গায় চিকিৎসা করাতে হবে। আমাদের একটি প্রাইভেট মেডিকেল  শাখা আছে যা চিকিৎসা আমরা দুই জন ডাক্তার ই করাবো আপনারা কোন চিন্তা করবেন না।"

 

উক্ত কথার উপর ভিত্তি করে গত ২১/০৯/২২ ইং তারিখে ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগমকে পিওথলীর পাথর অপসারন করার কথা বলে মোহাম্মাদপুরে ট্রাস্ট জেনুইন (টিজি) এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।  এবং ঔদিনই অপারেশন করার জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয় এবং হাসপাতালে রোগীকে আটকিয়ে রাখে । 

 

রোগীর স্বামী বাধ্য হয়ে রোগীর স্বর্ন-অলংকার বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করে ডাক্তারকে দেয়। তৎক্ষণাৎ ডাক্তার রোগীকে অপারেন করার জন্য প্রস্তুত হতে বলে। কিন্তুু ভুক্তভোগী রোগীর মানসিক বিপর্যয় নিয়েও অপারেশন থিয়েটারে জোর পূর্বক ডাক্তার ও দালাল নিয়ে যায়।  এক পর্যায় রোগীকে এ্যানেসথেসিয়া দিলে রোগী প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকে এবং রোগী অস্বস্তি বোধ করলে রোগী অপারেশন করাতে অস্বীকৃতি জানান।

 

কিছু সময় পর রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় এবং যখন জ্ঞান ফিরে তখন নিজে মেডিকলের বেডে প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরাতে থাকেন। ওই দিনই রোগী তার শরীরের বাম পাশের সকল অংশ প্যারালাইজড হয়ে যায়, কোনভাবে কাজ করে না, বিষয়টা ডা: আনিসুর রহমানকে অবগত করলে তিনি বলেছেন এটা ঠিক হয়ে যাবে কিন্তুু রোগীর আর প্যারালাইজড থেকে সেরে উঠতে পারিনি।

 

বরং ডাক্তার কাছে বারং বার শরণাপন্ন হবার পরও রোগীকে বিভিন্ন অপমান -অপদস্ত করা হয়। এমনকি উক্ত হাসপাতালে রোগীর স্বামীকে নিয়ে ডাক্তার এর কাছে গেলে হাসপাতালে সিকিউরিটি ও ডাক্তার মিলে রোগী ও তার স্বামীকে মারধর করে।

 

এ বিষয় কাউকে জানালে রোগী ও তার স্বামীর শেষ দেখা দেখে নেবার হুমকি দেয়, বাধ্য হয়ে রোগী ভুক্তোভোগী মোহাম্মদপুর থানায় অভিযোগ করেন।

 

এছাড়া সাংবাদিকগন এ বিষয় জানতে চাইলে ডাক্তার পক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরও কোন সদুত্তর মেলেনি বরং সাংবাদিক'দের বিভিন্ন লোক দিয়ে ফোন করে দেখে নেবার হুমকি প্রদান করেন।

Ads