o পেপ্যাল জুম সেবা এখন বাংলাদেশে o ভারত থেকে এক লাখ টন সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার o হেলথ কেয়ার, ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেক ট্রেড ফেয়ার ২০১৭ o আদালতের পথে খালেদা জিয়া o এক ওভারেই সাকিবের জোড়া আঘাত

আজ বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  অপরাধ  >  কমবয়সী সন্তানকে স্মার্টফোন দেওয়াটা ড্রাগ দেওয়ার মতোই ক্ষতিকর

কমবয়সী সন্তানকে স্মার্টফোন দেওয়াটা ড্রাগ দেওয়ার মতোই ক্ষতিকর

পাবলিশড : ২০১৭-০৬-১২ ১৩:২৭:৪২ পিএম

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

বাচ্চার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া, আর তাকে এক গ্রাম কোকেইন দেওয়াটা একই কথা, বলেন একজন আসক্তি বিশেষজ্ঞ। স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামে বন্ধুদেরকে মেসেজ করাটা ড্রাগ এবং অ্যালোকোহলের মতোই বিপজ্জনক আসক্তি তৈরি করতে পারে। অন্যান্য আসক্তির মতো এর ব্যাপারেও সাবধান থাকা উচিৎ, বলা হয় লন্ডনের এক এডুকেশন কনফারেন্সে। হার্লি স্ট্রিট ক্লিনিকের ডিরেক্টর, বিশেষজ্ঞ ম্যান্ডি স্যালিগারি বলেন, তার রোগীদের মাঝে অনেকেই হলো ১৩ বছর বয়সী বাচ্চা মেয়ে যারা ফোনে “সেক্সটিং” করাটাকে সাধারণ একটা ব্যাপার মনে করে।

প্রযুক্তিতে আসক্তি এবং বয়ঃসন্ধিকালের বিশেষজ্ঞদের পাশপাশি ম্যান্ডি সিলিগারি জানান, স্মার্টফোনে কাটানো সময়টা যে তরুণদের মাঝে আসক্তির সূচনা করতে পারে এ ব্যাপারটাকে বেশীরভাগ সময়েই এড়িয়ে যাওয়া হয়।

“ আমি সবাইকে বলি, আপনি যখন বাচ্চাকে একটা ট্যাবলেট বা ফোন দিচ্ছেন, আপনি আসলে তাদেরকে এক বোতল ওয়াইন বা এক গ্রাম কোকেইন দিচ্ছেন,” বলেন তিনি। “আপনি তাদের হাতে এটা ছেড়ে দিচ্ছে কোনো চিন্তা ছাড়াই। কেন আমরা ড্রাগ এবং অ্যালোকোহলের ব্যাপারে চিন্তিত, কিন্তু এসব ব্যাপারে না, যদিও মস্তিষ্কের ওপরে এগুলো একইভাবে কাজ করে?“   

১৩ বছরের মতো কম বয়সেই বাচ্চাদেরকে প্রযুক্তি আসক্তির কারণে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ব্রিটেনের ১২-১৫ বছর বয়সীদের মাঝে এক তৃতীয়াংশই স্বীকার করে যে তারা অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করে।

“আমরা যখন আসক্তির কথা চিন্তা করি, তখন একটা মাদকের কথা ভাবি- আসলে কিন্তু আসক্তি বোঝা যায় কিছু আচরণ থেকেই,” বলেন স্যালিগারি। এমন আচরণের মাঝে রয়েছে খাবার নিয়ে বেশি চিন্তাভাবনা, নিজের শরীরের ক্ষতি করা এবং সেক্সটিং।

সম্প্রতি কম বয়সীদের মাঝে স্মার্টফোনে পর্নোগ্রাফিক ছবি আদানপ্রদান এবং তাদের বয়সের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট অনলাইনে দেখার প্রবণতাটি নিয়ে মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। স্যালিগারি জানান, তার দুই তৃতীয়াংশ রোগী হলো ১৬-২০ বছর বয়সী, যারা আসক্তির চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক। গত ১০ বছরের মাঝে ভয়াবহভাবে বেড়েছে এমন রোগীর সংখ্যা। এর চাইতেও বেশি চিন্তার ব্যাপার হলো, তার কিছু কিছু রোগী এর চাইতেও অনেক কম বয়সী।

দেড় হাজারের বেশি শিক্ষকদের ওপর করা সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, দুই তৃতীয়াংশই জানেন যে তাদের শিক্ষার্থীরা পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট আদান-প্রদান করে। এমনকি প্রতি ছয় জনে একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী। বয়সের জন্য অনুপযুক্ত এসব ছবির কারণে পুলিশের কাছে বিগত তিন বছরে ২ হাজারেরও বেশি বাচ্চাকে রিপোর্ট করা হয়। ১৩-১৪ বছর বয়সী মেয়েরা সেক্সটিংকে “সাধারণ” বলেই মনে করে, জানান স্যালিগারি। বিশেষ করে, নিজেদের নগ্ন ছবি ফোন ব্যবহার করে কাউকে পাঠানটাকেও তারা স্বাভাবিক মনে করে। আর সেটা তখনই সমস্যার সৃষ্টি করে যখন বাবা-মা অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কেউ দেখতে পায়, বলে মনে করে তারা।

“বাচ্চাদেরকে যদি আত্মসম্মানবোধ শেখানো হয় তাহলে তারা নিজেদেরকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কম করবে,” বলেন স্যালিগারি। “এটা আত্মসম্মান এবং নিজেকে চেনার ব্যাপার।“

এর পাশাপাশি নাইটিঙ্গেল হসপিটাল টেকনোলজি অ্যাডিকশন লিডের ডক্টর রিচার্ড গ্রাহাম বলেন, গবেষকদের জন্য এই ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ বাবা-মায়েরা বুঝে উঠতে পারছেন না বাচ্চাদের স্মার্টফোন ব্যবহারটায় ভারসাম্য রাখবেন কীভাবে। এমনকি ৩-৪ বছর বয়সীরাও ইদানীং সপ্তাহে গড়ে সাড়ে ছয় ঘন্টা সময় ব্যয় করে ইন্টারনেটে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘুমের সময় এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার ব্যাপারে আরো গুরুত্ব দিতে হবে বাবা-মায়ের। এছাড়াও  স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দরকার। অনেকের জন্য এটা জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে, তাই সহজে তারা এটা ছাড়া চলতে চাইবে না। কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহার কমিয়ে আনাটা অসম্ভব নয়। স্কুল থেকেই যদি বলা হয় কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে, তাহলে ভালো হয়।

“স্মার্টফোন আসক্তির ব্যাপারটা যদি শুরুতেই ধরে ফেলা যায়, তবে বাচ্চাদের নিজেদেরকেই নিয়ন্ত্রণ শেখানো যাবে,” বলে স্যালিগারি। তাদেরকে স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে একেবারে দূরে না রেখে তার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে দেওয়াটাই উত্তম।

সুত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট

এ বিভাগের সর্বশেষ