o বেলকুচিতে ভূয়া ডাক্তার করছেন অপারেশনের মত কঠিন চিকিৎসা o তরুন গীতিকার প্রিন্স মিলনের নতুন গান তুমি দুঃখ দিলে o সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মাটি চাপায় শিশুর মৃত্যু o রোববার থেকে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে o ভারতের তুমুল জনপ্রিয় মালালা হঠাৎ ভিলেন কেন?

আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  মতামত  >  সভ্য জাতি গঠনে কিশোর বিকাশে পরিবেশ তৈরী করুন

সভ্য জাতি গঠনে কিশোর বিকাশে পরিবেশ তৈরী করুন

পাবলিশড : ২০১৯-০৯-০৯ ১৪:১৯:১৫ পিএম আপডেট : ২০১৯-০৯-০৯ ১৪:২৭:৫৪ পিএম

।। মাহমুদুল হক আনসারী ।।

সভ্য জাতি তৈরীতে কিশোর কিশোরীদের তৈরী করার দায়িত্ব সমাজের। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত এ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। শিশু ও কিশোর কিশোরী তারা নিষ্পাপ থেকে বেড়ে ওঠছে। মা-বাবা, ভাই বোন পরিবারের অপরাপর সদস্য থেকে তারা দেখে শুনে শিখে বয়সে বড় হতে থাকে। পরিবারের অপরাপর সদস্য যেভাবে আচার আচরণে বড় হয়, সে নিয়ম অনুসরণে শিশু কিশোররা বড় হওয়া রপ্ত করে। ু কিশোর-কিশোরী তারা শিখতেই তাদের অভ্যাস। পরিবার সমাজে যা সামনে দেখবে তাই তারা শিখে বাস্তাবায়ন করতে চেষ্টা করবে। সেটায় আজকের সমাজে দেখতে পাচ্ছি। সমাজের নানা মাধ্যম থেকে শিশুরা অনেক কিছু সহজেই শিখে নিচ্ছে। বিশেষ করে দেশি বিদেশী বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে যেসব অনুষ্টান দেখানো হয়, সেখান থেকে অনেক কিছু চিন্তা ও বাস্তবায়ন করতে দেখছি কিশোরদের। তারা ভালো মন্দ বুঝে উঠার আগেই ওইসব অনুষ্টান চর্চা করতে দেখা যায়। এক শ্রেণীর মা-বাবা পরিবার অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের বিষয় উদাসীন থাকতে দেখা যায়। অট্টালিকা টাকা পয়সা কোনো কোনো পরিবার কিশোরদের দিতে দ্বিধা করে না। অতি আদর অর্থ প্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত রেজাল্ট দিচ্ছে পরিবার ও সমাজকে। প্রয়োজন অপ্রয়োজনে অধিক ¯েœহ ভালোবাসা পেয়ে কিশোর কিশোরী অপরাধে জড়িয়ে পড়ার চিত্র দেখা যায়। পিছে থাকা পরিবার থেকে ভিআইপি পরিবারের কিশোররাও শৃঙ্খলার অভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ঝরে পড়া কিশোর থেকে শিক্ষার্থীরাও এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও নেতৃত্বে আছে। তাদের পেছনে বড় ভাইদের চত্রছায়া আছে। রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্টানিকভাবে বড় ভাইরা ওইসব কিশোরদের হুকুম দিয়ে থাকে। বড় ভাইদের দল বড় বড় রাজনৈতিক দল ও নেতার সাথে সম্পর্ক থাকে। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে কিশোর গ্যাংদের ব্যবহার করে। দেখা যায়, কিশোররা যখন বেপরোয়া হয়ে যায়, মা-বাবা ও পরিবার থেকে তখন তথাকথিত বড় ভাই তাদের সেল্টার দেয়। তখন ওইসব কিশোর আরো বেপরোয়া হয়ে যায়। কারণ সে ইচ্ছেমতো চলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মা-বাবা থেকে না পেলেও সেই বড় ভাই থেকে আনুকূল্য পেয়ে যায়। মা-বাবা পরিবার তখন তার প্রিয় সন্তানকে আগলে রাখতে চাইলেও সম্ভব হয়ে উঠে না। সেসময় কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে যায়। তার হিতাহিত জ্ঞান দেখা যায় না। তার কারণে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র অনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এখন সমাজ যা দেখছে সেটা হলো  কিশোর অপরাধের বিস্তার। এটা একদিনে হয়ে উঠে নি। এর পেছনে যেসব কারণ রয়েছে প্রথমে সেসব কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। কিশোরকে শিশু অবস্থায় পারিবারিকভাবে শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। পরিবারের মাধ্যমে শিশু থেকে শৃঙ্খলা নৈতিকতা শিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মা-বাবার তত্ত¡াবধান ব্যতিরেকে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে শিশু কিশোরদের ছেড়ে দেয়া সমুচিত নয়। শিশু থেকে চোখে চোখে রেখে তাদের বয়ো:বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আচার আচরণ বেড়ে উঠার সবকিছুর ওপর নজরদারি  রাখতে হবে পরিবারকে। প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈতিকতার শিক্ষা ও বাস্তবায়ন থাকতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশীলন পরিবার থেকে প্রতিষ্টান ও সমাজে বাস্তবায়ন থাকা চায়। এসব কিছু এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র সমাজ ও রাষ্ট্র যদি কিশোরদের দমন করতে চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে তাদেরকে সঠিক পথে আনা সম্ভব হবে না। শুদ্ধি অভিযান পরিবার থেকে প্রতিষ্টান পর্যন্ত করতে হবে। আচার অনুষ্টান সবকিছুতেই একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্টা করতে হবে। আজকের শিশু কিশোর কিশোরী আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ পরিবার থেকে প্রতিষ্টান সব ক্ষেত্রে আদর্শিক মানবীয় গুণাগুণের মাধ্যমে তৈরী করতে হবে। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সে দেশের শিশু কিশোরদের প্রতি কঠোরভাবে নজরদারি রাখতে হবে। সেটা থাকতে হবে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত। একমাত্র কথা দিয়ে আর শাস্তির মাধ্যমে সেটা কখনো সম্ভব নয়।  এজন্য সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে সমাজকে। সমাজের আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম কিশোর কিশোরীবান্ধব না হলে সেক্ষেত্রে অপরাধের জন্য কিশোরদের দায়ী করা মোটেও সমুচিত হবে না। তাদের জন্য অনুকূল পরিবশে  তৈরী করা  সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি, বেহায়াপনা , অশ্লীল অনুষ্টান তদারকি করতে হবে। দেশি বিদেশী চ্যানেলকে শিশু কিশোরবান্ধব করে তৈরী করা চায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্টান থেকে বিনোদনের নামে বেপরোয়া ও অশ্লীলতা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেটাও রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। সমাজ সংস্কারক আর চিন্তকদের এসব বিষয় গভীরভাবে মনোযোগী হওয়া চায়। যেভাবে কিশোর অপরাধ বাড়ছে তাতে করে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত এখন চিন্তায় কঠোর হচ্ছে। সুতরাং এক্ষেত্রে কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তাদের পেছনে যাদের ইন্ধন মদদ তাদের চিহ্নিত ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। চিকিৎসা মূলে করতে হবে। তাহলে আগায় রোগ ছড়াবে না। সম্জা রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থে কিশোরদের আদর্শিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশ  তৈরী করার দায়িত্ব সকলের।    
লেখক: গবেষক, প্রাবন্ধিক