o নরওয়েজিয়ান ক্লাবে যোগ দিলেন মেসি o বহিরাগতদের হাতে ক্যাম্পাসেই ছাত্রী লাঞ্ছিত o ইমার্জিং দলের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন সাইফ o শাহজাদপুরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু‘পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ২ o রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে ডাক কর্মচারীদের মানববন্ধন

আজ শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  মতামত  >  ঈদকে ঘিরে ছিনতাই: সচেতনতা এবং নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে

ঈদকে ঘিরে ছিনতাই: সচেতনতা এবং নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে

পাবলিশড : ২০১৯-০৮-০৮ ১২:০৮:১৮ পিএম

।। আজহার মাহমুদ ।।

বছর ঘুরে প্রতিবারের ন্যায় এবারও এসেছে মুসলমানদের বৃহত্তর এবং অন্যতম একটি উৎসব ঈদুল আযহা। তাই সকলেই ঈদে নাড়ির টানে বাড়িতে ফিরবে। এটা নতুন কিছু নয়। ঈদ মানেই খুশি। এটা সকলের অজানা নয়। কিন্তু আমাদের দেশে এই ঈদের সময় কখনও কখনও খুশির সাথে কান্না এবং দুখও মিলে। বাড়ি ফেরার পথে অনেক অনেক যাত্রি ছিনতাইয়ের শিকার হয় প্রতি বছর। কিন্তু তবুও এ সমস্যার  সমাধান হয় না। সারা বছর চাকরি করে বাড়ি যাওয়ার সময় পরিবারের জন্য যা কিছু নিয়েছে তা এক নিমিষেই শেষ হয়ে হয়ে যায় ছিনতাইকারির কবলে পড়ে। বাড়ি ফিরতে হয় মলিন মুখে। অনেকেই আবার লাশ হয়ে ফিরে। এসব ছিনতাইকারী এবং ডাকাতরা অনেক সময় হত্যা করে লুটপাট করে আপনার সর্বস্ব।  

এছাড়াও ঈদুল আযহা মানে কোরবানী দেওয়া। এতে পশু ক্রয় করার বিষযটাও অন্যতম একটি বিষয়। এসকল সুযোগ কাজে লাগাতে ইতোমধ্যেই বাজারে নেমে পড়েছে ছিনতাইকারীর সদস্যরা। এদের কবলে পড়ে আপনি হারাতে পারেন আপনার সবকিছুই। অনেক সময় এর মাধ্যমে কোনো কোনো পরিবারে নেমে আসতে পারে চরম বিপর্যয়। আপনার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক সময় আপনার প্রাণ নিতেও দ্বিধাবোধ করে না এসকল নরপশুরা। এরকম ঘটনা আমাদের সমাজে আজ অহরহ। কিন্তু এতেও প্রশাসনের বাড়তি কোনো নজরদারীর দেখা মেলে না। যদি বাড়তি নজরদারী দেখা যেত তাহলে এসব ঘটনা ঘটতো না। গত ৩০ মে ঈদের সময় নিজ বাড়ি চট্টগ্রামের লালখান বাজারে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীর শিকার হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর পয়ে ছয়টি ছুরির আঘাতও করা হয়েছে। তার মোবাইলফোন এবং নগদ টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে পালিয়েছে। পরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ওই শিক্ষার্থীকে। শুধু এ ঘটনা নয়, এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে যা আমরা রোজ শুনছি এবং দেখছি।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়, বেপরোয়া ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া মানুষগুলো সাথে সাথে কোনো পুলিশের সহায়তা পাচ্ছে না। এর আগেও ঈদের ছুটিতে বেপরোয়া ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির শিকার হয়ে মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাজেই ঈদের ছুটিতে যে কোনো ধরনের ছিনতাই-চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে সততার সাথে।

ঈদের সময়টিতে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা, এমনকি রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে মানুষের বাসাবাড়ি ফাঁকা থাকার সুবাদে চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটে বেশি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঝেও একধরনের শিথিল মনোভাব কাজ করে। এ সুযোগটিই কাজে লাগায় দুর্বৃত্তরা। তাই আমরা মনে করি, মানুষের উপস্থিতি কম থাকার কারণে ছিনতাইকারী, চোর-ডাকাতরা যেন উৎসাহী হতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও বেশি তৎপর হওয়া দরকার। যদিও ডিএমপি কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাবের মহা পরিচালক, এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিও বলেন, ঈদ সামনে রেখে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে না। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসন, সর্বোপরি সরকারের। ঈদ ও যেকোনো উৎসব সামনে রেখে ছিনতাই-চাঁদাবাজি, অজ্ঞান ও মলম পার্টি তৎপর হয়ে ওঠার ঘটনা যেহেতু প্রতি বছরই ঘটে, সেহেতু এ সময় পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানবিক দায়িত্ববোধও বেড়ে যায়। কারণ এ সময় ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তির পরিবারের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। উৎসবকেন্দ্রিক ছিনতাই-চাঁদাবাজি, জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা ধরে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা। তাহলেই উৎসবকেন্দ্রিক অপরাধের লাগাম টেনে ধরা সহজ হবে। সর্বোপরি ঈদের উৎসব এবং আমেজ হয়ে উঠবে উপভোগ্য এবং সুন্দর।

লেখক : কলামিষ্ট, প্রবন্ধিক