o সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা o স্কাইপ বন্ধ করা হয়নি : বিটিআরসি চেয়ারম্যান o নড়াইলে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কেটে বিক্রি o পীরগঞ্জে শীতকালীন তরমুজের ভাল দামে কৃষকের মুখে হাসি o রামগড়ে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

আজ বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  জীবনযাত্রা  >  বর্ষায় শিশুর যত্ন

বর্ষায় শিশুর যত্ন

পাবলিশড : ২০১৮-০৭-২৪ ১০:৩৯:৪৪ এএম

।। তাইম শেখ, মাদারীপুর ।।

প্রকৃতিতে চলছে এখন বর্ষাকাল। আর বর্ষাকাল মানেই যখন-তখন ঝরঝর বৃষ্টি।বর্ষায় ভিজতে কার না ভালোলাগে? খোলা আকাশের নিচে উজার করে দিতে ইচ্ছে করে নিজেকে । কিন্তু বর্ষায় যেমন আছে প্রবল আনন্দ। তেমনি আছে রোগ ব্যাধির ভয়। বিশেষ করে শিশুদের।

গায়ে জড়ানো রেইনকোট অথবা মাথার উপর ছাতা , তারপরও হঠাৎ বৃষ্টির কয়েক ফোঁটা পানি আপনার শিশুকে  অসুস্থ করতে পারে । এ সময় রোগটা খুব দূরূত্ব ছড়ায়। বর্ষা কালে  কখনো কাঠফাটা রোদ, আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি।বর্ষায় রোদ বৃষ্টির হিসাব করে চলাটা খুবই মুসকিল।

আবহাওয়ার এ পরিবর্তনে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণটা ঘটে খুব দ্রুত। তাই এসময়ে  ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে জ্বর, কাশি, ঠাণ্ডা, সর্দি, ইত্যাদি । এই স্যাঁতসেঁতে  মৌসুমে শিশুর ত্বকে দেখা দিতে পারে ছত্রাকজনিত অনেক সমস্যা।

কীভাবে শিশুর যত্ন নিবেন?

অন্য সময়ের চাইতে আপনাকে এই বর্ষা মৌসে শিশুদের প্রতি কঠোর হতে হবে। আপনার সন্তান বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক  আবদার,অজুহাত সহ আকতি মিনতি করবে। কোনোভাবেই তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দিবেন না।প্রয়োজন হলে আপনার মূল্যবান কাজ রেখে আপনার সন্তানকে সময় দিন। তখন তাকে ভোলানোর জন্য বেতিক্রম ভাবে ইম্প্রেস করুন।

এই বৃষ্টিতে শিশু জুতো ভিজিয়ে ফেললে ভেজা জুতো বেশিক্ষণ যাতে পায়ে না থাকে। খেয়াল করুন গায়ে রেইনকোট জড়ালেও পায়ে যেন রাস্তার নোংরা পানি না লাগে । এসব পানির জীবাণু গায়ে লাগলে নানা রকম  রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শহরের ড্রেনের ময়লা পানি বৃষ্টির পানিতে ভেষে উঠে এবং সে ময়লা যুক্ত পানি পায়ে বা শরীরের অন্য কোথাও লাগলে চর্ম রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে শুকনো তোয়ালে দিয়ে চুল মুছেদিন নিবেন।

বর্ষায়  শিশুর পোশাকের প্রতিও খেয়াল রাখুন। এই বর্ষায়  বাইরে যাওয়ার জন্য সিনথেটিক কাপড় সবচাইতে ভালো উপযোগী।

এসময়  ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই দিন ও রাতে সবসময় ঘুমানোর সময় মশারি টাঙ্গিয়ে দিন। যাতে মশায় না কামরাতে পারে। বাড়ির চারিপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন  রাখুন। বর্ষায়  বাড়ির বাইরের মতই বাড়ির ভিতরও জীবাণু বিরাজ করতে পারে। কেননা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা থাকলেই জীবানু হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই  ঘরবাড়িটাকেও পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে ।
বর্ষাকালে বাইরের খাবারে পেটের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই বাইরের খাবার যেমন ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি এগুলো শিশুদের খেতে দিবেন না। বাসায় তৈরি করা খাবার সন্তানকে স্কুল টিফিনের জন্য দিন ।

বর্ষাকালে শিশুকে ভিটামিন-সি জাতীয় ফলমূল ও পানি জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। বর্ষার টাইফয়েড, জণ্ডিস, কৃমির মত পানি বাহিত রোগ থেকে বাঁচতে খাওয়ার পানি ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে নিবেন। আর অবশ্যই খাবার আগে নিজে ও শিশুদের হাত ধুয়ে নিন।

বর্ষায়  বাড়ির বাইরের মতই বাড়ির ভিতরও জীবাণু বিরাজ করতে পারে। কেননা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা থাকলেই জীবানু হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই  ঘরবাড়িটাকেও পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে । শিশুর হাঁচি কাশি শুরু হলেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ান।