o জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে প্রস্তুত নয় আওয়ামী লীগ o রাজশাহীতে কোমলমতি শিশুদের মরণ বোঝা ভারী স্কুল ব্যাগ o আবারো সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম o জঙ্গিবাদের উদ্ভব হয় এমন প্রতিষ্ঠান কখনই 'বিশ্ববিদ্যালয়' হতে পারে না o ২৮-২৯ অক্টোবর পরিবহন শ্রমিকদের সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক

আজ শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  জীবনযাত্রা  >  গড়ে চার বছর বেশি বাঁচেন ধার্মিক ব্যক্তিরা

গড়ে চার বছর বেশি বাঁচেন ধার্মিক ব্যক্তিরা

পাবলিশড : ২০১৮-০৬-২০ ১৪:৫৯:২০ পিএম

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

ধার্মিক ব্যক্তিরা গড়ে চার বছর বেশি বাঁচেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মানসিক ও ব্যক্তিত্ব বিজ্ঞান বিষয়ক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে এ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

দেশটির ১ হাজার জন ব্যক্তির ওপর গবেষণা করে তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জীবনকাল, বৈবাহিক অবস্থা, লিঙ্গ ইত্যাদিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক ও এই গবেষণাপত্রের লেখক লরা ওয়ালেস বলেন, ‘দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে লিঙ্গের মতো ধর্মীয় সম্পৃক্ততাও খুবই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত বিষয়।’

অবশ্য এটা ঠিক যে, এ ধরণের গবেষণা এটাই প্রথম নয়। জীবনযাপনের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছে। ২০১৬ সালে ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর গবেষণা পরিচালনা করে দেখা যায়, যারা সপ্তাহে অন্তত একবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যান, তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে না যাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন।

গবেষকরা মনে করেন যে, ধর্মে সম্পৃক্ততা এবং সমাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশগ্রহণ সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ২০১০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, যেসব মানুষের সামাজিক বন্ধন দৃঢ় তাদের বেঁচে থাকার হার অন্যদের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে জরিপ পরিচালনার পর এ গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়।

ওয়ালেসে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, স্বেচ্ছাসেবী হওয়া ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে এক বছরের মধ্যেই ধর্মীয় সম্পৃক্তরা এনে দেয়। ধর্মীয় সম্পৃক্ততার অনেক উপকারিতা রয়েছে যা এখানে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।’

ওই গবেষকের মতে, এসব উপকারিতা পাওয়া যায় মেডিটেশন, প্রার্থনা এবং চাপ কমানোর অন্যান্য অভ্যাস থেকে। কিছু প্রাথমিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, ধ্যান হৃদরোগ এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর প্রবণতা কমিয়ে আনে। যদিও এ গবেষণাটি বিশদ আকারে করা হয়নি।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড ফ্রিডম্যান বলেন, ‘যারা তাদের ধর্মীয় অনুশীলন পরিত্যাগ করে, তারা অন্যদের চেয়ে আগে মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়ে।’

ফ্রিডম্যান ‘দীর্ঘায়ু প্রকল্প’ নামে একটি গবেষণা পরিচালনা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তার গবেষণাটি ১ হাজার ৫২৮ জন নর-নারীর ওপর পরিচালিত হয়। যেখানে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের শৈশবকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনুসরণ করা হয়।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা এবং বিএমআই অনুসরণ করাও দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করে। গবেষণায় বলা হয়, যেসব নর-নারী এই নিয়মে চলতে পারেন তারা অন্যান্যদের তুলনায় কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি ৮২ শতাংশ কমে যায় এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় ৬৫ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, যারা ধর্মের সঙ্গে অন্যান্য বিষয় যেমন অ্যালকোহল ও মাদক গ্রহণে বিরত থাকাও দীর্ঘায়ু হওয়ায় প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে পাঁচটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মধ্যে শুধু মদ্যপান বা ধূমপান থেকে বিরত থাকলেই ১০ বছর বেশি আয়ু লাভ করা সম্ভব হতে পারে। এ ছাড়া যারা ধীরে হাঁটেন তাদের তুলনায় দ্রুত হাঁটা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ২০ শতাংশ কম।