o নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সিইসির নির্দেশ o রাজশাহীতে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ, প্রচার-প্রচারণা শুরু o প্রশাসন ও আইসিটির প্রশিক্ষণে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন কুতুবদিয়ার প্রধান শিক্ষক জহির o নড়াইলের দুটি আসনে ১২ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন o শাহজাদপুরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

আজ সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  অনিয়ম  >  রাজধানীতে প্রাইভেটকারে ধর্ষণকালে ধনীর দুলাল আটক

রাজধানীতে প্রাইভেটকারে ধর্ষণকালে ধনীর দুলাল আটক

পাবলিশড : ২০১৮-০৬-১০ ১৩:৩৫:২৪ পিএম

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এক তরুণীকে জোর করে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে ধর্ষণকালে রনি হক নামে এক ধনীর দুলালকে ধাওয়া করে আটক করেছে জনতা। পরে অভিযুক্ত রনি ও তার গাড়িচালককে প্রাইভেট থেকে বের করে বেধড়ক মারধর করে জনতা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে চালক পালিয়ে গেলেও রনিকে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার রাতে কলেজগেট সিগন্যাল থেকে রনিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত রনি হক দুই সন্তানের জনক। বেসরকারি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এই সাবেক ছাত্র পেশায় ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, কলেজগেট সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারের ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন রনি। ওই সময় আরেকটি গাড়িতে ছিলেন রাফি আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি মনে করছিলেন গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চলছে। এর পর রাফিসহ সেখানে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেটকারটি আটকে ফেলেন। তখন তারা দেখতে পান গাড়ির পেছনের আসনে রনি এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। পরে জনতা গাড়ির ভেতর থেকে আক্রান্ত তরুণী, অভিযুক্ত মদ্যপ তরুণ ও গাড়িচালককে বের করে আনেন।

তরুণী জনতাকে জানান, তাকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর পর জনতা ওই তরুণ ও গাড়িচালককে উত্তমমধ্যম দেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাফি আহমেদ ওই ঘটনার বিবরণসহ একটি ভিডিওচিত্র সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত ওই ভিডিওটি ১০ হাজারেরও বেশি বার শেয়ার হয়েছে। ভিডিওটিতে পাঁচ হাজার দুই শতাধিক মন্তব্য পড়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় কলেজগেট থেকে মদ্যপ এক তরুণকে মাতলামি করার অভিযোগে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
ডিউটি অফিসার আবদুল জলিল জানান, এসআই মিনহাজ আহমেদের নেতৃত্বে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন ডিউটি অফিসার।

ঘটনা সম্পর্কে রাফি আহমেদের বিবরণ “আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগন্যালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিল যে, সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরও কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। তখনো ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ হতে যাচ্ছি।

আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি, পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান। ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের চিহ্ন। এর পর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করল।

পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই নর-পিচাশটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।”
রাফি আহমেদের ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই অভিযুক্ত হিসেবে রনি হককে চিহ্নিত করেন। তারা রনির ফেসবুক আইডিও শেয়ার করে তার বিচার দাবি করেছেন।