o বিশ্বকাপে পাওয়া সব অর্থই দান করে দিলেন এমবাপ্পে o রাজশাহীতে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় ককটেল হামলা o চলে গেলেন রিতা ভাদুড়ি, বলিউডে শোকের ছায়া o বাসায় ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, ৫ আসামির রিমান্ড o দেশে ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৯২: মহিলা পরিষদ

আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ |

আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  বিনোদন  >  শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়নি!

শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়নি!

পাবলিশড : ২০১৮-০৩-১৫ ১৭:৩৬:৪১ পিএম আপডেট : ২০১৮-০৩-১৫ ১৮:৩২:১৫ পিএম

।। শারমিন শিলা ।।

উপ-মহাদেশের অভিনয় জগতের অনন্য রুপসী এবং অসাধারণ এক অভিনেত্রী যিনি ১৯৭৮ সালে ‘ষোলওয়া সাওয়ান’ ছবি দিয়ে বলিউড পাড়ায় পদার্পন করেছিলেন। যার সৌর্ন্দয্য ও অভিনয় শৈলী ও চমকপ্রদ প্রতিভা দিয়ে ভারত ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের একজন অভিনয় জগতের দেবী হয়ে নিজের জানান দিয়েছিলেন । যিনি শুধুমাত্র যৌবনে ভরা দর্শকদের প্রিয় অভিনেত্রী না হয়ে- সকল বয়সের মানুষ- শিশু, কিশোর এবং বয়োবৃদ্ধদের মনের কোঠায় খোদাই করে নিজের নাম লিখে গেছেন, এমন গুণী ও মানুষের জনপ্রিয় মনের দেবী যার ব্যক্তিত্বের বিকাশ পৃথিবী জুড়ে অতএব তাঁর মৃত্যু হতে পারেনা।

শ্রীদেবীর অভিনয় সময়কালের ৫ বছরের মধ্যেই জ্যোষ্ঠ অভিনেতা জিতেন্দ্রর বিপরীতে ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রূপে ও গুণে দর্শকদের মুগ্ধ করে ফেলেন অভিনয় জগতে দেবী রুপে আসা শ্রীদেবীর । খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে হিন্দি ছবির প্রভাবশালী অভিনেত্রীদের তালিকায় উঠে আসে তাঁর নাম । অবশেষে অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে আসে তাঁর নাম । জীবনের দ্বিত্বীয় ইনিংসে প্রযোজক বনি কাপুরের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার শুরু করেন শ্রীদেবী। দাম্পত্য জীবনে শান্তির প্রত্যাশায় শুরু করেন তাদের তৃতীয় উনিংস, প্রিয় ভক্তদের কাঁদিয়ে হঠাৎ চলে যান রুপোলি পর্দার আড়ালে। বহু দিন পর অর্থাৎ ২০১২ সালে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবি দিয়ে ফের পূনরায় ফিরে আছেন দর্শকদের মাঝে। ঠিক সেই বছরে জিতে নেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। এরপর থেমে যান আবার অদৃশ্য হয়ে। লুকোচুরির মাঝে গত বছর আবার প্রত্যাবর্তন ‘মম’ ছবি দিয়ে। দক্ষ অভিনয় শিল্পীদের হারিয়ে যেতে নেই হারতে নেই, তাই তাদের ফিরে আসতে হয় বারে বারে। এই জন্য কামব্যাকও করেছিলেন চলতি বছরে শাহরুখ খান প্রযোজনায় ‘জিরো’ ছবিতে বিশেষ ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য।

sri

হিন্দি ছাড়াও দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতেও দাপটের সঙ্গে কাজ করেছিলেন শ্রীদেবী। মালয়ালম, তেলুগু, তামিল এবং কন্নড় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

গত ২৪শে ফেব্রয়ারী ২০১৮ শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুবাইয়ে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রিয় অভিনেত্রী। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। শ্রীদেবীর মৃত্যুতে বলিউডসহ পৃথিবীজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শ্রীদেবীর মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁর স্বামীর ছোট ভাই সঞ্জয় কাপুর। 

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দুবাই গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও ছোট মেয়ে। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রীদেবী। অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। অনিল কাপুরের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে দুবাইয়ে ছিলেন শ্রীদেবী ও তাঁর পরিবার। অভিনেত্রীর মৃত্যুর সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্বামী বনি কাপুর ও মেয়ে খুশি। শ্যুটিংয়ের কাজে অন্যত্র ব্যস্ত থাকায় দুবাইয়ে ছিলেন না বড় মেয়ে জাহ্নবী কাপুর। শ্রীদেবীর মৃত্যুতে বলিউড ও বিনোদন জগতের তারকাদের পাশাপাশি অভিনেত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভক্তরাও।rty

এর মধ্যে মিডিয়া পাড়াতে খবর আছে নতুন আরেকটি তথ্য। দুবাই ভিত্তিক গালফ নিউজ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের একটি ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে।। সেখান থেকে জানা যায়, শ্রীদেবীর শরীরে অ্যালকোহল পাওয়া গেছে এবং সে রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ দেখানো হয়েছে দুর্ঘটনামূলক ডুবে যাওয়া।

২৬ ফেব্রুয়ারির পুলিশ তদন্তের রিপোর্টে বলা  হয়েছে অ্যালকোহলের প্রভাবেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ারের হোটেলের বাথরুমের বাথটাবের পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। আর তারপরই মৃত্যু ঘটে বলিউডের ‘চাঁদনি’ খ্যাত শ্রীদেবীর। শ্রীদেবীর শরীরে অ্যালকোহলের নমুনা পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে দুবাই পুলিশ।

শ্রীদেবীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শ্রীদেবীর টুইটারে পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন তার স্বামী বনি কাপুর।

বনি কাপুর বলেন, একজন স্ত্রী, একজন বন্ধু আর দুই মেয়ের মাকে হারানোর অনুভূতি জানানোর ভাষা নেই। এসময় যারা পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।tyu

শ্রীদেবীকে বন্ধু উল্লেখ করে স্বামী বনি কাপুর বলেন, সারাবিশ্বের কাছে শ্রীদেবী চাঁদনি হয়ে থাকলেও সে আমার কাছে ছিল ভালোবাসা; আমার ভালো বন্ধু এবং আমাদের দুই সন্তানের কাছে একজন মা।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ‘লমহে’ ছবির শুটিং-এর সময়ই শ্রীদেবী ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তার মৃত্যুর পর যেন সব কিছুই যেন সাদা কাপড়ে মুড়ে ফেলা হয়। নায়িকার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাই সব কিছুই সাজানো হয়েছিল তার প্রিয় রং সাদায়।

সাদা ফুল দিয়ে সাজানোর পাশাপাশি শ্রীদেবী-র বাংলো ‘ভাগ্য’ও মুড়ে ফেলা হয়েছিল সাদা কাপড়ে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও সকলকে অনুরোধ করা হয়েছিল সাদা পোশাকে আসতে। সেই মতো প্রায় সব বলিউড তারকাকেই এ দিন দেখা গিয়েছে সাদা পোশাকে লোখণ্ডওয়ালার সেলিব্রেশন স্পোর্টস ক্লাবে।

শ্রীদেবীকে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী সুপারষ্টার বলা হয় যার মৃত্যু প্রিয় ভক্তদের মনের জগতে হতে পারেনা। শ্রীদেবী তার কর্মের সাধন এবং কর্মের যে প্রতিফলন ঘটিয়ে গেছেন তার মৃত্যু কাল্পনিক, তবে সত্য হতে পারেনা। প্রিয় অভিনেত্রী সবার হৃদয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে প্রিয় ভক্তদের এটাই প্রত্যাশা।